উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ আগামী ৮ জুন, সোমবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক (Delhi Assembly) ঘিরে যখন জাতীয় রাজনীতি সরগরম, ঠিক সেই সময়েই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের গুঞ্জন। দলীয় সূত্রে খবর, লোকসভায় তৃণমূলের এক বড় অংশের সাংসদ দলত্যাগের পথে হাঁটতে পারেন এবং নতুন নেতৃত্বের প্রস্তাব নিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হতে পারেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ৮ জুন তারিখটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন একদিকে যেমন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক রয়েছে, তেমনই রাজধানীতে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরই মাঝে তৃণমূলের একাধিক সাংসদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, লোকসভায় নতুন দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে, যদিও কাকলি দেবী এই সমস্ত খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও প্রকাশ্যে এনেছে। জোয়ার-ভাটার উপমা টেনে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মানসিকভাবে তিনি দলের সঙ্গে নেই। তিনি রাজনীতি থেকে অবসর অথবা দল ছাড়ার মতো বিকল্পগুলো খোলা রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
সুখেন্দুশেখর রায়ের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অধিকার থাকলেও, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। অন্যদিকে, লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র সরাসরি দলনেত্রীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দলবিরোধী অবস্থান নেওয়া নেতাদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
৮ জুনের দিল্লি সফর এখন কেবল ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক নয়, বরং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শাসকদলের অন্দরের এই টালমাটাল পরিস্থিতি আসন্ন দিনগুলোতে কী রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
