তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: দার্জিলিংয়ের রিচমন্ড হাইকের সামনে ঘন জঙ্গলে দেখা গেল বিরল প্রজাতির মেলানিস্টিক বা কুচকুচে কালো শিয়াল (Darjeeling Melanistic Jackal)। বন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমবার এ ধরনের শিয়াল পশ্চিমবঙ্গে দেখা গিয়েছে। এর আগে অসম ও কেরলে কালো শিয়ালের দেখা পাওয়া গেলেও পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলে এই ধরনের শিয়াল অতিবিরল বলে বন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে। পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে জোড়া এই মেলানিস্টিক শিয়ালের দেখা পাওয়াকে বাস্তুতন্ত্রের জন্য ‘পজিটিভ সাইন’ হিসেবে দেখছেন বন দপ্তরের আধিকারিকরা। বন দপ্তরের লাগানো ট্র্যাপ ক্যামেরায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে বিরল প্রজাতির এই শিয়ালের ছবি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে বন দপ্তর।
এ বিষয়ে বন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলে দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে। পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে এই বিরল প্রজাতির শিয়ালের দেখা মেলায় তাদের ওপর নজর রাখার জন্য বন দপ্তরের উদ্যোগে আরও কয়েকটি জায়গায় ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
বন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘গত মাসের শেষের দিকে ট্র্যাপ ক্যামেরায় এই জোড়া মেলানিস্টিক শিয়ালের ছবি ধরা পড়েছে। বিরল প্রজাতির এই শিয়ালের দেখা পাওয়া বাস্তুতন্ত্রের সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। রিসার্চ টিমকে এ ব্যাপারে সমস্ত তথ্য রেকর্ড রাখতে বলা হয়েছে। হাইব্রিডাইজেশন এবং মিউটেশন শিয়াল দুটির মেলানিজমের কারণ হতে পারে।’
পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্র ভালো থাকার কারণে বিরল প্রাণীদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন বনাধিকারিকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় মেলানিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে শিয়াল দুটির গায়ের রং সম্পূর্ণ কালো হয়েছে। চলতি বছরের অগাস্ট মাসে পাহাড়ের পথে মেলানিস্টিক লেপার্ডের দেখা পাওয়ার ঘটনায় বন্যপ্রাণপ্রেমীদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। বন্যপ্রাণীদের গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখার জন্য বিভিন্ন জঙ্গলে বসানো হয়েছে ক্যামেরা। জঙ্গলে আরও মেলানিস্টিক শিয়াল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দপ্তরের ওই আধিকারিক জানান। পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রেখে কীভাবে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে বন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে।

