জয় মণ্ডল, ডালাস: ডালাসের (Dallas) স্টেডিয়ামে ফুটবলের সময়রেখা যেন এক অদ্ভুত বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। মুখোমুখি দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা। একদিকে কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)-ফরাসি ফুটবলের একচ্ছত্র সম্রাট, যাঁর সামনে এখন টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার হাতছানি। সেই পশ্চিম জার্মানি ও ব্রাজিলের সোনালি যুগের পর এমন কীর্তি আর কোনও দলের নেই। এমবাপে নিজেও অবিশ্বাস্য ফর্মে। আটটি গোল করে সোনার বুট জেতার দৌড়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। আর অন্যদিকে তাঁর রাজত্ব ছিনিয়ে নিতে প্রস্তুত ১৮ বছরের স্প্যানিশ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল (Lamine Yamal)। সদ্য ইউরো কাপ জেতা এই রাজপুত্র এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউরো ও বিশ্বকাপের ‘ডাবল’ মুকুট ছিনিয়ে নিতে।
পরিসংখ্যান দেখলে অবশ্য ফরাসি সমর্থকদের বুক কাঁপতে বাধ্য। শেষ দশবারের মুখোমুখি সাক্ষাতে (ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে), ইয়ামালের দল আটবারই শেষ হাসি হেসেছে। এমবাপের দল জিতেছে মোটে দুইবার। যদিও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে স্প্যানিশ তরুণের (৬ গোল) চেয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে ফরাসি অধিনায়ক (৯ গোল)।
এই লড়াই শুধু সেমিফাইনালের গণ্ডিতে আটকে নেই, বরং ইতিহাসের পাতায় নাম তোলার এক চূড়ান্ত পরীক্ষাও বটে। বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ২০টি গোল (২০১৮ সালে ৪টি, ২০২২-এ ৮টি এবং ২০২৬ সালে ৮টি) করে ফেলেছেন এমবাপে। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি ২১ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবেন। অন্যদিকে স্পেনের হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলে ইয়ামাল ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে টিনএজার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন।
ম্যাচের আগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের পারদও চড়তে শুরু করেছে। স্প্যানিশ তরুণ ইয়ামাল সটান বলে দিয়েছেন, ‘হয় ওরা টানা তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে, নয়তো আমরা ওদের টানা তিনবার হারাব। আমি জানি না কী হতে চলেছে, তবে আমরা মোটেই ভয় পাচ্ছি না।’ একদিকে এমবাপের ৩৬.৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি, ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টের খতিয়ান, অন্যদিকে ইয়ামালের টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ সফল ড্রিবলিং ও ৪টি অ্যাসিস্ট। রাজা কি তাঁর মুকুট ধরে রাখতে পারবেন, নাকি রাজপুত্রের হাতে উঠবে নতুন যুগের ব্যাটন? ডালাসের সবুজ গালিচাতেই লুকিয়ে আছে মহারণের উত্তর।

