তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: তরুণ শিল্পোদ্যোগীদের প্রচারের আলোয় আসার বড় সুযোগ করে দিচ্ছে দার্জিলিং মেলো টি ফেস্ট (Darjeeling)। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশ ও বিদেশের পর্যটকদের কাছে নিজেদের পণ্য তুলে ধরার এমন সুযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁরা।
উৎসবে শুধু নাচ, গান ও বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি নয়, স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের স্টার্টআপকে কীভাবে প্রচার করা যায় সে নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছিল প্রশাসন। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে দার্জিলিংয়ে চলছে মেলো টি ফেস্টিভাল। চৌরাস্তায় এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে এখন যেন আগাম ক্রিসমাস।
স্থানীয় খাবার থেকে হাতের কাজের বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যাচ্ছে এই মেলো টি ফেস্টিভালে। তৃতীয় মেলো টি ফেস্টিভালে চলতি বছর প্রথমবার যুক্ত করা হয়েছে ‘ডি স্টার্টআপ’। সেখানে স্থানীয় ৫০ জন ছোট উদ্যোগপতিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে তাঁদের স্টল, টেবিল, চেয়ার, বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। এগুলির মধ্যে ২৫টি খাবারের স্টল এবং বাকিগুলো হাতের কাজের স্টল রয়েছে। মেলো টি ফেস্টে ঘুরতে এসে পর্যটকরা এই স্টলগুলোতেও ঢুঁ মারছেন। প্রথমবার এমন সুযোগ পেয়ে একটি ক্যাফের মালিক সিদ্ধান্ত সাংপাং বলেন, ‘প্রশাসনের তরফে এই সুযোগ দেওয়ার জন্যই আমরা নিজেদের খাবার তুলে ধরতে পেরেছি। প্রত্যেকটি খাবারে স্থানীয় ফ্লেভার রাখা হয়েছে। পর্যটকরা এই উৎসবে এসে আমাদের স্টলের খাবার খেয়ে খুব খুশি হয়েছেন। খুব ভালো সাড়া পেয়েছি।’
স্থানীয় খাবারের ফিউশনও এখানে রয়েছে। পর্যটকেরা যাতে এখানে এসে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি,খাবারের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই স্থানীয় ছোট উদ্যোগপতিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সুগন্ধি, জুস, হাতে তৈরি মোমবাতি, ক্রশেেডর সামগ্রী সহ নানা জিনিসের পসরা নিয়ে তঁারা উৎসবে এসেছেন। ক্রিসমাসের মরশুমে এখান থেকে অনেকেই ঘর সাজানোর জিনিস কিনছেন।
প্রথমবার মেলো টি ফেস্টে এধরনের উদ্যোগ দেখে একটি স্টার্টআপের কর্ণধার আশিস স্যাংবো বলেন, ‘এধরনের অনুষ্ঠানে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন কিছু করার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। পাহাড়ের এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যে কতরকমের ব্যবসার কথা ভেবেছেন তা ডি স্টার্টআপে এসে পর্যটকরা দেখেছেন।’ আচার আর জেলি তৈরি করে এই ফেস্টিভালে স্টল দিয়েছেন মিংমা ডোমা ভুটিয়া। তাঁর কথায়, ‘এত ভালো সাড়া পাব ভাবিনি।’
মেলো টি ফেস্টিভালে রবিবার পর্যন্ত এই স্টল থাকবে। পরের বছর আরও বেশি স্থানীয় স্টার্টআপকে এই ফেস্টিভালে সুযোগ করে দিতে চান উদ্যোক্তারা।
