উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আম আদমি পার্টিতে (AAP) আক্ষরিক অর্থেই আকাল। ঘর গুছিয়ে নেওয়ার আগেই ঘর খালি করে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন রাঘব চাড্ডা-সহ সাত হেভিওয়েট রাজ্যসভা সাংসদ। দলের এই নজিরবিহীন অস্তিত্বের সংকট সামাল দিতে এবার সরাসরি দেশের রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হচ্ছেন পাঞ্জাবের (Punjab) মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান (Bhagwant Mann)।
আগামী ৫ মে রাষ্ট্রপতি ভবনে দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন তিনি। সূত্রের খবর, দলত্যাগী সাংসদদের ‘ফিরিয়ে দেওয়ার’ দাবি নিয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চাইবেন মান।
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের দাবি, এই গণ-দলবদল সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারেন:
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এভাবে দলবদলকে ‘গণতন্ত্রের অবমাননা’ হিসেবে চিহ্নিত করা।
- দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে সংসদীয় পদক্ষেপের দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানের এই দৌড়ঝাঁপ কিছুটা ‘দেরি হয়ে যাওয়া’ প্রচেষ্টার মতো। কারণ, রাজ্যসভার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই রাঘব চাড্ডা, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহানি—এই সাতজনের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ‘বিজেপি’ তকমা। ফলে আইনিভাবে তাঁদের ফিরিয়ে আনা বা সদস্যপদ খারিজ করা মানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একঝাঁক আপ বিধায়ক গেলেও, রাষ্ট্রপতি ভবনের ভেতরে মান একাই প্রবেশ করবেন। বাকিরা বাইরে অপেক্ষা করবেন বলে জানা গিয়েছে।
অপরদিকে বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাঘব চাড্ডা আপ-এর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তাঁর কথায়,”আমার যৌবনের ১৫টা বছর এই দলকে দিয়েছি। কিন্তু আজ আপ আদর্শচ্যুত। দেশসেবা নয়, ব্যক্তিগত লাভই এখন এই দলের শেষ কথা।”
পাল্টা আক্রমণে আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং এই দলবদলকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, যাদের বিরুদ্ধে এতকাল লড়াই চলল, রাতারাতি তাদের কোল কেন বেছে নিলেন রাঘবরা?
পাঞ্জাব এবং দিল্লির রাজনীতিতে আম আদমি পার্টির জন্য এটি যে বড় ধাক্কা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। একদিকে সাংসদ হারানো, অন্যদিকে রাজ্যসভায় শক্তি কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে ব্যাকফুটে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। এখন দেখার, রাষ্ট্রপতির দরবারে গিয়ে ভগবন্ত মান এই পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে পারেন কি না।
