একেই বলে দাপট। একেবারে প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে গিয়ে অনায়াসে জয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের। কোন প্রতিপক্ষ? যারা কি না আইপিএলে টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। যারা কি না বলে বলে ২০০ রান পার করে দিত। সেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে মাত্র ১৬৫ রানের মধ্যে পেড়ে ফেলল নাইটদের বোলিং বিভাগ। সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন নাগপাশে হাঁসফাঁস করলেন অভিষেক শর্মা, হেনরিক ক্লাসেনরা। অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ও ‘স্টার বয়’ অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর চওড়া ব্যাটে অল্প রানের লক্ষ্য ধীরে সুস্থে তুলে ফেলল কেকেআর। ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতল নাইটরা। ৯ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে নাইটরা অষ্টম স্থানেই রইল ঠিকই, তবে জয়ের হ্যাটট্রিকে প্লেঅফের স্বপ্ন ফের দেখতে শুরু করেছেন নাইটভক্তরা।
এই বিষয়ে আরও খবর
আইপিএলের সম্ভবত সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপ সানরাইজার্সের। অভিষেক শর্মা, ট্র্যাভিস হেড, ঈশান কিষান বা হেনরিক ক্লাসেনের মধ্যে কোনও একজন দাঁড়িয়ে গেলেই বিপক্ষ ছত্রভঙ্গ। সেখানে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের পিচ একেবারে পাটা। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সানরাইজার্স অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তার মধ্যে কেকেআরে এদিনও অভিষেক হয়নি পেসার মাথিশা পাথিরানার। বৈভব অরোরা বা কার্তিক ত্যাগীরা কি ‘ট্র্যাভিষেক’কে সামলাতে পারবেন?
অভিষেক শর্মাকে শুরুতেই ফেরান কার্তিক। কিন্তু হেডের কোনও উত্তরটা ছিল না কারও কাছে। অজি ওপেনার চিরাচরিত ঢংয়ে ২৮ বলে ৬১ রান করেন। তার মধ্যে ছিল ৯টা চার ও তিনটে চার। বৈভব হোক বা ক্যামেরন গ্রিন, কারও বলই বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে ছাড়েননি হেড। তাঁর ‘পার্টিতে’ যোগ দেন ঈশান কিষানও। ২৯ বলে তিনিও ৪২ রান করে যান। কিন্তু নাইটদের উদ্ধারকর্তা তো আছেন। একজন নয়, দু’জন। বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিন। হেডকে ফেরালেন বরুণ। আর নারিনের শিকার ঈশান। তারপরই সানরাইজার্সের ‘নকল বুঁদিগড়’ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল। বরুণের ঘূর্ণিতে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরলেন দুই তরুণ ভারতীয় রবিচন্দ্রন ও অনিকেত বর্মা। রান পাননি ক্লাসেনও। ১০৫ রানে ২ উইকেট থেকে ১৬৫ রানে সব উইকেট হারায় সানরাইজার্স। বরুণের ঝুলিতে ৩ উইকেট। দু’টি করে শিকার কার্তিক ও নারিনের। তৃতীয় বোলার হিসেবে আইপিএলে ২০০ উইকেট হয়ে গেল ক্যারিবিয়ান স্পিনারের। একটি করে উইকেট পান বৈভব, গ্রিন ও অনুকূল রায়। আঁটসাঁট বোলিংয়ে মাত্র ১৬৫ রানে গুটিয়ে যায় সানরাইজার্স।
সহজ লক্ষ্য তুলতে কোনও অসুবিধা হয়নি নাইটদের। টিম সেইফার্টের জায়গায় দলে ফেরানো হয়েছে ফিন অ্যালেন। কিউয়ি ওপেনার শুরুতেই নাইট ব্যাটিংয়ের ছন্দটা ঠিক করে দিয়েছিলেন। ১৩ বলে ২৯ রান করে আউট হলেও রাহানেদের উপর চাপ একেবারেই কমিয়ে দেন। সেখান থেকে আর কোনও ভুল করেনি কেকেআর। রাহানে ও অঙ্গকৃষ ধীরে সুস্থে দলকে লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে দেন। নাইট অধিনায়ক ৩৬ বলে ৪৩ রান করেন। অঙ্গকৃষের ব্যাট থেকে ফের একটি হাফসেঞ্চুরি এল। ৪৭ বলে ৫৯ রান করে যান তিনি। বাকি কাজটি শেষ করেন রিঙ্কু ও ক্যামেরন গ্রিন।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
