কেতুগ্রাম: জ্যান্ত মানুষ পাশে দাঁড়িয়ে, অথচ সরকারি খাতায় তিনি ‘মৃত’! পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম বিধানসভার নৈহাটি এলাকায় ভোটের দিন এক অবাক করা ঘটনার সাক্ষী থাকলেন ভোটাররা। ২৪১ নম্বর বুথে ভোট দিতে গিয়ে ঝর্ণা বিশ্বাস নামের এক মহিলা জানতে পারলেন, নির্বাচন কমিশনের নথিতে তাঁর নামের পাশে লেখা রয়েছে ‘মৃত’। ফলে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ না করেই চোখের জলে বুথ ছাড়তে হলো তাঁকে (Ketugram Voter Record Lifeless Standing)।
বুধবার সকালে ছেলে ও বৌমার সঙ্গে উৎসাহ নিয়ে ভগবানডাঙ্গা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ঝর্ণা বিশ্বাস। নৈহাটির ২৪১ নম্বর বুথে পৌঁছে লাইনেও দাঁড়ান। পরিবারের বাকি সদস্যরা ভোট দিলেও ঝর্ণা দেবীর পালা আসতেই ছন্দপতন ঘটে। বুথে উপস্থিত বিএলও (BLO) অনলাইন ভোটার তালিকা পরীক্ষা করে সাফ জানিয়ে দেন, তালিকায় তাঁকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাই তিনি ভোট দিতে পারবেন না।
বুথ চত্বরেই ঝর্ণা দেবীর বৌমা শ্রাবণী বিশ্বাস ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “অদ্ভূত ব্যাপার! শাশুড়ি মা নিজের পায়ে হেঁটে ভোট দিতে এলেন, অথচ নথিতে তিনি নাকি মৃত। তাঁর সঙ্গেই হেঁটে বাড়ি ফিরলাম, কিন্তু তিনি ভোটটা দিতে পারলেন না।” প্রশাসনের এই চরম গাফিলতিতে ঝর্ণা বিশ্বাস এখন নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে কোন দপ্তরে যাবেন, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এই গুরুতর ভুল নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিএলও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ভোট উৎসবের দিনে একজন জীবিত নাগরিককে মৃত ঘোষণা করে তাঁর ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
