পতিরাম: দুইদিন টানা বৃষ্টির পর শনিবার একদিনের বিরতি মিললেও রবিবার বিকেল থেকে ফের শুরু হয় বৃষ্টি (Rain)। আর এতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) বিস্তীর্ণ এলাকা। পতিরাম, কুমারগঞ্জ, কুশমণ্ডি এবং হরিরামপুরে বিপর্যস্ত জনজীবন। দীর্ঘদিন ধরে নর্দমা পরিষ্কার না হওয়ায় নিকাশি ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বসতবাড়ি—সব জায়গাতেই এখন জল। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
পতিরামের অরবিন্দপল্লি গার্লস প্রাইমারি স্কুলের পিছনপাড়া, লক্ষ্মীপুর জলট্যাংকি সংলগ্ন এলাকা, কদমতলি রাজ্য সড়ক, চকহায় পূর্ব ও পশ্চিমপাড়া, নিচাবন্দর দিঘির পাড়া এবং পারপতিরাম বাহিচা হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকা বর্তমানে পুরোপুরি জলমগ্ন। কোথাও রাস্তা পুকুরের রূপ নিয়েছে, কোথাও বা সৃষ্টি হয়েছে ছোট নদীর মতো পরিস্থিতি। নর্দমা বন্ধ থাকায় বৃষ্টির নোংরা জল ঢুকে পড়ছে বাসিন্দাদের বাড়ির উঠোন, এমনকি শৌচাগারেও।
অরবিন্দপল্লির বাসিন্দা রাপ্পু দাস জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তৈরি সিমেন্টের রাস্তা নীচু হয়ে যাওয়া এবং ড্রেন বুজে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল বের হতে পারে না। অপর এক বাসিন্দা পুলু দাস অভিযোগ করে বলেন, ‘দুই মাস ধরে পঞ্চায়েতে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না। গত বছর পাড়ায় সমাধান শিবিরে বিষয়টি জানানো হলেও সমাধান মেলেনি। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর পথবাতি না জ্বলায় জমা জলে সাপ ও পোকামাকড়ের আতঙ্ক বেড়েছে।’ পতিরাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের দাবি, ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় বর্তমানে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
পতিরাম ছাড়াও কুমারগঞ্জ ব্লকের সমজিয়ার পলাশি গ্রাম, সাফানগর পঞ্চায়েতের একাধিক এলাকা, ভোঁওর অঞ্চলের মূলগ্রাম, মোহনা ও বটুন পঞ্চায়েতের বিভিন্ন রাস্তাও জলের তলায়। অন্যদিকে, কুশমণ্ডিতে রবিবারের বৃষ্টি অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। জল জমেছে কুশমণ্ডি বাসস্ট্যান্ড, কুমারপাড়া থেকে শুরু করে একাধিক জায়গায়। মাঝিয়ান কৃষি গবেষণাকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর দুটো পর্যন্ত জেলায় ৯১.০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বাধিক। বৃষ্টির পরেও ভ্যাপসা গরম না কমায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিপর্যয়। রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে। অপর্ণা তালুকদার ও প্রবীণ নাগরিক হিরণ্ময় রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টানা বৃষ্টি এবং গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রবীণ ও শিশুদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে কুশমণ্ডির বিধায়ক তাপসচন্দ্র রায় জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তিনি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
একইভাবে ভারী বর্ষণের জেরে বিপর্যস্ত হরিরামপুরের জনজীবন। বাগিচাপুর পঞ্চায়েতের সামনে হরিবাসরের রাস্তায় প্রায় দেড় ফুট জল জমে গিয়েছে। বাসিন্দা চৈতি সরকারের অভিযোগ, পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। সারাবছর ড্রেন পরিষ্কার হয় না। তবে বাগিচাপুর পঞ্চায়েত প্রধান মৌমিতা পারভিনের দাবি, পঞ্চায়েত থেকে প্রতি বছর ড্রেন পরিষ্কার করা হলেও স্থানীয় মানুষই তা আবর্জনা ফেলে বুজিয়ে দেন।

