প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: এক আশাকর্মীর বাড়িতে চড়াও হয়ে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন জামালপুরের বিজেপি নেতা সুশান্ত মণ্ডল (BJP Chief Arrest)। ধৃত সুশান্ত বিজেপির জামালপুর ১ মণ্ডলের সহ-সভাপতি। সোমবার রাতে জামালপুর থানার পুলিশ তাকে হালাড়া মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ মে। জামালপুরের হিরণ্যগ্রামের বাসিন্দা ওই আশাকর্মী অভিযোগ করেন, তিনি নিজের বাড়ির জায়গা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরছিলেন। সেই সময় বিজেপির জামালপুর ১ মণ্ডলের সম্পাদক বসন্ত পাঁজা, সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল এবং তাদের সঙ্গীরা শাবল, লোহার রড ও কাটারি নিয়ে তার বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযোগ, তারা বাড়ি ভাঙচুর করে, তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ১৯ মে আশাকর্মী এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত বসন্ত পাঁজার দাবি, ওই আশাকর্মী সম্পর্কে তার বৌদি হন এবং তৃণমূলের মদতে যাতায়াতের পথ দখল করে বেড়া দিয়েছিলেন। সেই বেড়া উপড়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র, মারধরের ঘটনা ঘটেনি। সুশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী তথা বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী দেবিকা দেবনাথ আবার দাবি করেছেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই স্থানীয় বিজেপি সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালের প্ররোচনায় এই গ্রেপ্তার। যদিও প্রধানচন্দ্র পাল সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “বাংলায় আইনের শাসন চলছে, অন্যায়ের শাস্তি পুলিশ দিচ্ছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুশান্ত মণ্ডলের অতীত বিতর্কিত। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী থাকাকালীন নিজের বাড়িতে বোমা মারার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এরপর তিনি সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং পদ পান। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির মতো মামলাও রয়েছে।
জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার এই গ্রেপ্তারের পর দলের অভ্যন্তরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সুশান্ত মণ্ডলের মতো ‘ক্রিমিনাল মেন্টালিটির’ লোকদের দলে নেওয়া ঠিক হয়নি। তবে পুলিশ গ্রেপ্তার করে প্রমাণ করেছে, অপরাধ করলে বিজেপি নেতা হলেও ছাড় নেই।” বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসুও স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনায় জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

