উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের সামরিক শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইসিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার (প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের আধুনিকীকরণে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক্স হ্যান্ডেলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, এই বিশাল অঙ্কের ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। চলতি অর্থ বছরে (২০২৫-২৬) প্রতিরক্ষা খাতে মোট ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ৫৫টি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা একটি সর্বকালীন রেকর্ড।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য বেশ কিছু অত্যাধুনিক সিস্টেমের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ধনুষ গান সিস্টেম: দূরপাল্লার কামানের নিখুঁত লক্ষ্যভেদ ও শক্তি বাড়াতে এই দেশীয় সিস্টেম অত্যন্ত কার্যকর।
- এয়ার ডিফেন্স ট্র্যাকড সিস্টেম: আকাশপথে শত্রুর আক্রমণ রুখতে রিয়েল-টাইম কন্ট্রোল ও রিপোর্টিং সুবিধা দেবে।
- অন্যান্য সরঞ্জাম: ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী গোলাবারুদ (Armoured Piercing Tank Ammunition), হাই ক্যাপাসিটি রেডিও রিলে এবং রানওয়ে ছাড়াই উড়তে সক্ষম নজরদারি ড্রোন (Aerial Surveillance System)।
আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে বিমানবাহিনী পাচ্ছে একাধিক বড় উপহার:
- S-400 মিসাইল সিস্টেম: রাশিয়ার তৈরি এই শক্তিশালী লং-রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম আকাশপথে উন্নত হুমকি মোকাবিলা করবে।
- পরিবহন বিমান: পুরোনো হয়ে যাওয়া AN-32 এবং IL-76 ফ্লিট বদলে ফেলার জন্য নতুন মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট (MTA) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- স্ট্রাইক ড্রোন: রিমোটলি পাইলটেড স্ট্রাইক এয়ারক্রাফট বা ঘাতক ড্রোন কেনা হবে, যা স্টিলথ নজরদারি ও হামলা চালাতে সক্ষম।
- Su-30 ইঞ্জিন ওভারহল: সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের আয়ু বাড়াতে ইঞ্জিনের আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ডের জন্য হেভি ডিউটি এয়ার কুশন ভেহিকেল (Hovercraft) অনুমোদন করা হয়েছে। এগুলো হাই-স্পিড টহলদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই ধারাবাহিক নজরদারি এবং বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ দেশের সামরিক বাহিনীকে কেবল আধুনিকই করছে না, বরং উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতকে আরও স্বনির্ভর ও শক্তিশালী করে তুলছে।
