তন্দ্রা চক্রবর্তী দাস, কোচবিহার: প্রায় ১০ কোটি টাকার হিসেব নিয়ে প্রশ্নের মুখে কোচবিহার পুরসভা (Cooch Behar municipality)। গ্যাসের পাইপলাইনের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির পর রাস্তা সংস্কারের জন্য ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের (বিপিসিএল) (BPCL) তরফে পুরসভাকে বিপুল টাকা দেওয়া হলেও সম্পূর্ণ কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। এদিকে, পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান যখন টাকা পাওয়ার কথা অস্বীকার করছেন, তখন বিপিসিএলের এক আধিকারিকের দাবি, প্রায় ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল পুরসভাকে। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পুরসভার বর্তমান এক আধিকারিক অবশ্য ওই টাকার হদিস পেতে খোঁজখবরের আশ্বাস দিয়েছেন।
কোচবিহার (Cooch Behar) শহরে বাড়ি বাড়ি গ্যাসের সংযোগ দিতে রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। পরে ওই রাস্তা সংস্কারের জন্য মোট তিন ধাপে প্রায় ১০ কোটি টাকা পুরসভাকে দেওয়া হয় বলে বিপিসিএলের এক আধিকারিক দাবি করছেন। তবে রাস্তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার, নোটিশ কোনও কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অবশ্য আগেই বলেছেন, ‘যত টাকা পাওয়া গিয়েছিল তা দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে।’
প্রাক্তন চেয়ারম্যান এই দাবি করলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দু’-একটি ছাড়া কোনও রাস্তা সংস্কার হয়নি। তাহলে বিপিসিএলের দেওয়া টাকা গেল কোথায়, এই প্রশ্ন উঠছে। এদিকে, দায়িত্বে থাকাকালীন পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা সাফ বলেছিলেন, ‘রাস্তা সংস্কারের জন্য এক পয়সাও আসেনি। আগে কিছু এসে থাকলে জানা নেই।’ তবে ম্যাসটিক রোড মেরামত করার মতো পরিকাঠামো পুরসভার নেই বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।
গত ৮ জুন উত্তরবঙ্গ সংবাদে ‘গ্যাসের পাইপলাইন বসানোয় অব্যবস্থা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরব হন ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের এক আধিকারিক। তখনই তিনি পুরসভাকে প্রায় ১০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর কথা, ‘রাস্তা সংস্কারের দায়িত্ব আমাদের নয়। ইতিমধ্যে গ্যাসের পাইপলাইন বসানোর পর রাস্তা সংস্কারের জন্য পুরসভাকে টাকা দিয়েছে বিপিসিএল।’ পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পুরসভাকে মোট ১৬ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বিপিসিএলের। তিনি বলেন, ‘পুরো টাকা দেওয়া হয়নি। তবে যে টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা কোথায় গেল তা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’
কোচবিহার শহরে পূর্ত দপ্তরের অধীনে রয়েছে ৭৪ কিলোমিটার রাস্তা, বাকি রাস্তা ও অলিগলি পুরসভার দায়িত্বে। পূর্ত দপ্তরের এক আধিকারিকের দাবি, তাঁদের কিছু না জানিয়ে সব টাকা পুরসভাকে দেওয়া হয়েছে। তবে পুরসভার বাইরে কোচবিহার-দিনহাটা রাস্তা এবং কেশব রোড থেকে খাগড়াবাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় যে সব কাজ হয়েছে, সেখানে বিপিসিএল সরাসরি পূর্ত দপ্তরকে টাকা দিয়েছে বলে তিনি জানান।
জানা গিয়েছে, অপটিক্যাল ফাইবার বসানোর জন্য নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট পেতে তিন রকমের ফি দিতে হয়। প্রথমত, জমি ব্যবহার করার জন্য লাইসেন্স ফি। দ্বিতীয়ত, রাস্তা সংস্কারের জন্য রেস্টোরেশন চার্জ এবং তৃতীয়ত, ব্যাংক গ্যারান্টি। বিপিসিএলের দাবি, তারা চুক্তি অনুযায়ী সব নিয়ম পালন করেছে।
টাকা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে আখেরে ভোগান্তির শিকার নাগরিকরা। রাস্তা মেরামত না হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে। খাগড়াবাড়ির অমল কাঞ্জিলাল বলেন, ‘প্রায় এক বছর হতে চলল রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। এখনও মেরামত হল না। দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা দরকার।’

