অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: কাঁটাতারের ওপারে হিমেল হাওয়ায় দুলছে সোনালি হাজারবিবি ধান। অথচ বিগত তিন মাস ধরে লালন করা ধান ছুঁতে পারছেন না কৃষকরা। কারণ, বর্ডারের গেট তালাবন্ধ। বিএসএফের কড়া পাহারা। কবে গেট খুলবে সেই আশায় বসে আছেন উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) রাধিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আবদুল মালেক, আবদুল রহমান, মগদুল আলম-রা। চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ- ধান আদৌ ঘরে উঠবে তো!
এনিয়ে বিএসএফ-এর আচরণেও তাঁরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। চাঁদগাঁও সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৩ নম্বর গেটটি বন্ধ রেখে, প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে বিএসএফ একটি গেট খোলা রেখেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। শুধু তাই নয় রাধিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিএসএফ ‘তুঘলকি’ শাসন চালাতে চাইছে বলেও অভিযোগ উঠছে। আসলে বিএসএফ কর্তাদের কিছুমিছু উপঢৌকন দিতে পারলেই ডাল গলে বলে তাঁদের মনে হয়। কিন্তু তাঁদের করুণার জন্য বিনামূল্যে পসরা সাজিয়ে দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।
রাধিকাপুরের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আবদুল রহমান বলেন, ‘বিএসএফ কর্মীরা যা ইচ্ছে তাই করছে। মঙ্গলবার তাদের কিছু কর্মী আমার জমির ১২০টি ইউক্যালিপ্টাস গাছ কেটে নিয়ে গিয়েছে। তাদের অত্যাচারে বাড়ির মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা বেশ চিন্তিত।’
রাধিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন চাঁদগাঁও কৃষক সমৃদ্ধ গ্রাম। শ্রাবণ মাসে সীমান্তের ওপারে নিজেদের জমিতে, উত্তর দিনাজপুরবাসীর প্রাণের ধান হাজারবিবির চারা রোপণ করেছিলেন কৃষকরা। তারপর প্রায় তিন মাসের পরিশ্রমের পর অগ্রহায়ণ মাসে সেই ধান পেকেছে। কিন্তু সীমান্তের ওপারে নিজের জমির প্রায় দেড় বিঘা অংশের ধান এখনও কাটতে পারেননি মইদুল। তাঁর কথায়, ‘কাঁটাতারের ওপারে আমার ৫ বিঘা জমিতে হাজারবিবি ধান বুনেছিলাম। এখনও অনেক ধান কাটা বাকি। কিন্তু বেশকিছু দিন ধরে চাঁদগাঁওয়ের গেট খুলছে না বিএসএফ। তবে কেন জানি না, দু’কিলোমিটার দূরের একটা গেট খুলে রাখা হয়েছে। তাই অনেকেরই ধান জমিতে পড়ে আছে। এতটা ঘুরপথে গিয়ে ফসল তুলে আনা সম্ভব নয়। পরিশ্রমও বেশি।’ আরেক কৃষক আবদুল মালেকের কথায়, ‘প্রতিদিন দু’বেলা নির্দিষ্ট সময় গেট খোলার কথা। কিন্তু বিএসএফ কর্তারা এখন সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছেমতো গেট খুলছেন।’
এনিয়ে রাধিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সমর্থিত প্রধান ভরনা রায় বলেন, ‘অনেক চাষিই অভিযোগ জানিয়েছেন। শুনেছি এখনকার কোম্পানির কমান্ডান্ট চাঁদগাঁও এলাকায় ধান কাটতে দেওয়ার বিষয়ে অহেতুক কড়াকড়ি করছেন। কিন্তু তিনি অন্য দু’নম্বরি কাজে সহায়তা দিচ্ছেন বলেও খবর পেয়েছি। আগামীকাল বিএসএফ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। আশা করি সমস্যা মিটবে।’
এনিয়ে কালিয়াগঞ্জের বিডিও বিদ্যুৎবরণ বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘সীমান্ত নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। ওটা কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। চাষিদের স্বার্থে বিএসএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্টের সঙ্গে কথা বলতে পারি।’
