কোচবিহার: কর্মীসংখ্যা মাত্র এক। যার জেরে কোচবিহারে বীজ নিগম প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। কৃষি দপ্তরের কাছে এই প্রকল্পের জন্য রয়েছে ৫২ একর জমি। তাতে ধান, সর্ষে সহ বিভিন্ন শস্যের উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের কথা। সেই বীজ জেলার কৃষকদের বিনামূল্যে সরবরাহ করারও কথা। কিন্তু কর্মীর অভাবে এক-পঞ্চমাংশ জমিতেও উন্নতমানের উৎপাদন করতে পারছে না কৃষি দপ্তর। সামান্য পরিমাণ জমিতেও বীজ উৎপাদন করলেও কর্মীর অভাবে তা ভালোভাবে করতে পারছে না দপ্তর। এতে বীজের মান ভালো হচ্ছে না, তেমনই উৎপাদনও কম হচ্ছে। এর ফলে কৃষি দপ্তর থেকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বীজ না পেয়ে কৃষকদের মোটা টাকা দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। গত ছয়-সাত বছর ধরে এমনই অবস্থা চলছে। অথচ, প্রশাসন ভ্রূক্ষেপহীন।
এই ব্যাপারে জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশিক্ষণ) সর্বেশ্বর মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের ৫২ একর জমিতে বীজ উৎপাদনের ২২ জন স্থায়ী কৃষি শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র একজন। যার জেরে হাজিরায় কিছু শ্রমিক নিয়ে কোনওভাবে ১০ একর জমিতে বীজ উৎপাদন করতে পারি।’
শহরের বিবেকানন্দ স্ট্রিটে জেলা কৃষি দপ্তর। ১৫ বছর আগেও দপ্তরটির হাতে ১০২ একর জমি ছিল। কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২৫ একর, মহারাজা জীতেন্দ্রনারায়ণ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কলেজ ক্যাম্পাসের জন্য ২০ একর সহ বিভিন্ন জমি দেওয়ার ফলে দপ্তরের হাতে ৫২ একর জমি রয়েছে। জমি চাষ করার জন্য দপ্তরে ২২টি স্থায়ী পদ রয়েছে। সাত-আট বছর আগেও অধিকাংশ কর্মী ছিলেন। তবে একজন বাদে বাকিরা অবসর নিয়েছেন। জমি চাষের পরিকাঠামো থাকলেও তা কাজে আসছে না।
অথচ দপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একর জমি থেকে গড়ে দুই হাজার কেজি বীজ উৎপাদন হওয়ার কথা। যা জেলায় কম করে ২০০ জন কৃষককে তা বিনামূল্যে দেওয়া যেতে পারে। সেই হিসাবে ৫২ একর জমিতে ১ লক্ষ ৪ হাজার কেজি বীজ উৎপাদন হত। ফলে সেই বীজ জেলায় কম করে ১০ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে দিতে পারত। কিন্তু কর্মীর অভাবই এখন মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমি জঙ্গল অবস্থায় ফাঁকা পড়ে রয়েছে, আবার জমিতে গরু চরে বেড়াচ্ছে। সবমিলিয়ে কর্মীর অভাবে ধুঁকছে কৃষি দপ্তরের বীজ উৎপাদন করার ব্যবস্থা।
