কোচবিহার : সেসপুলের(cesspool) গাড়িতে সংগ্রহ করা মলমূত্র ফেলা হচ্ছে নিকাশিনালায়। সেই আবর্জনা সরাসরি গিয়ে মিশছে তোর্ষায়। কোচবিহার পুরসভার এই কাণ্ডে শোরগোল পড়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবেশপ্রেমীরাও।
কোচবিহার শহর ও সংলগ্ন এলাকা থেকে মলমূত্র সংগ্রহ করে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ভিতরে বিশেষভাবে তৈরি করা একটি জায়গায় সেগুলি ফেলার কথা। কিন্তু তার বদলে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে প্রবেশের মুখেই তোর্ষা(torsha) লাগোয়া একটি নিকাশিনালায় সেগুলি দিনের পর দিন ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যদিও পুরসভার প্রশাসক তথা সদর মহকুমা শাসক গোবিন্দ নন্দীর কথায়, ‘এই ঘটনায় পুরসভার কেউ জড়িত নয়। বাইরের কেউ এই কাজ করে থাকতে পারে। সেজন্য পুলিশে অভিযোগ করা হবে।’
কোচবিহার শহর লাগোয়া গুড়িয়াহাটি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বকুলতলা এলাকায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড রয়েছে। আবর্জনা সংগ্রহ করে সেখানেই জমা করে পুরসভা। বিভিন্ন বাড়ি বা অন্যান্য জায়গা থেকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মলমূত্র সংগ্রহ করেও সেখানে নির্দিষ্ট নিয়মে জমা করা হয়। কার্যত আবর্জনার পাহাড় জমায় তা তোর্ষায় গিয়ে মিশছিল বলে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। তবে এবার গাড়িভর্তি মলমূত্র দীর্ঘদিন ধরে নিকাশিনালায় ফেলায় এবং তা তোর্ষায় মেশায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ রক্ষিতের অভিযোগ, ‘মাঝেমধ্যেই দেখা যায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের সামনে একটি নালায় গাড়ি থেকে মলমূত্র ফেলে দেওয়া হয়। সেগুলি গিয়ে তোর্ষায় মেশে। সোমবার দুপুর দুটোর সময়েও একই ঘটনা ঘটে। আমি নিজে ছবি, ভিডিও তুলে রেখেছি। কর্মীদের কাছে সেখানে আবর্জনা ফেলার কথা জানতে চাইলে তাঁরা জবাব না দিয়ে চলে যান। এগুলি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
বাসিন্দাদের প্রকাশ করা ভিডিওয় দেখা গিয়েছে,(যদিও উত্তরবঙ্গ সংবাদ ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি) ডাম্পিং গ্রাউন্ডের সামনে নিকাশিনালার পাশে মলমূত্রভর্তি গাড়ি দাঁড় করিয়েছেন দুজন কর্মী। সেখানেই আবর্জনাগুলি ফেলা হচ্ছে। তবে পুরসভার এক আধিকারিকের দাবি, এরকম হওয়ার কথা নয়। কর্মীদের নির্দিষ্ট জায়গাতেই সেগুলি ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ নিয়ম না মানলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পরিবেশবিদদের দাবি, সরাসরি নদীতে দিনের পর দিন প্রচুর পরিমাণে মলমূত্র মিশতে থাকলে জলবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ফলে দ্রুত সদর্থক পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। পরিবেশপ্রেমী সংগঠন গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট কনজারভেটিভ অর্গানাইজেশনের সম্পাদক তথা অধ্যাপক তাপস বর্মনের কথা, ‘এটি পুরোপুরি আইনবিরুদ্ধ কাজ করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী মলমূত্র সংগ্রহ ও ফেলা পুরোটাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করতে হবে। যেখানে-সেখানে সেগুলি ফেলে দেওয়া যায় না। আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হব যাতে তারা সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে নেয়।’
