কোচবিহার: বছরের শুরুতে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম পাওয়ার কথা। অথচ জুন মাস পড়লেও বাচ্চারা সরকারি ইউনিফর্ম পায়নি। এতে সমস্যায় পড়েছে কোচবিহার জেলার প্রায় তিন লক্ষ ছাত্রছাত্রী। যারা এবছরই স্কুলে ভর্তি হয়েছে, তারা ইউনিফর্ম না পেয়ে অন্য পোশাকে স্কুলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অপেক্ষাকৃত উঁচু ক্লাসের পড়ুয়ারা গত বছরের পুরোনো ইউনিফর্ম পরেই স্কুলে আসছে। যেগুলি অনেকের ক্ষেত্রে ছোট হয়ে গিয়েছে। দুঃস্থ পরিবারগুলির পক্ষে দোকান থেকে সন্তানদের ইউনিফর্ম কিনে দেওয়া সম্ভব না। গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। যদিও শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের পোশাক বছরের শুরুতেই দেওয়ার কথা। কিন্তু জুন মাস হয়ে গেলেও পোশাক না পাওয়ায় বাচ্চারা সমস্যায় পড়েছে।’
এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সরকার বলেন, ‘ইউনিফর্মের অভাবে অনেক বাচ্চা অন্য পোশাক পরে স্কুলে আসছে। এতে স্কুলের নিয়মবিধি পালন না হওয়া সত্ত্বেও আমরা কিছু বলতে পারছি না।’ শহরের গুঞ্জবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অপু চক্রবর্তী বলেন, ‘অভিভাবকদের অনেকে জিজ্ঞাসা করেন বাচ্চাদের পোশাক কবে আসবে, কিন্তু আমরা পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারছি না।’
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, বছরের শুরুতে ইউনিফর্ম দেওয়ার জন্য অন্য বছর সেই কাপড় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের মধ্যে জেলা গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরে চলে আসে। এরপর প্রতিটি ব্লকের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইউনিফর্ম তৈরি হয়ে ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছায়। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে কি সেটা হয়নি?
এ বিষয়ে জেলার এক প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, ‘ইউনিফর্ম তৈরির জন্য কাপড় সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে আসার কথা থাকলেও এবার কাপড় এসেছে জানুয়ারির শেষে। শিক্ষা দপ্তরে আধিকারিকদের পরিদর্শনের পর নিয়ম মেনে সেই কাপড় পাঠানো হয়েছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর কাছে। বিভিন্ন জায়গায় ইউনিফর্ম তৈরি শুরুও হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে ইউনিফর্ম তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে আছে।’
পালাবদলের আগাম আঁচ পেয়ে স্কুল ইউনিফর্ম তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে কি না, সেটা নিয়ে কোনও আধিকারিক বিগত সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাইছেন না।
তবে কাজের সঙ্গে জড়িত অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের জন্য প্রথম থেকে বিষয়টি অগোছাল ছিল। তাই পোশাক তৈরির কাপড় এসেছে কয়েক মাস পর। নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় ফলাফল দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে চাইছিলেন তাঁরা। এক আধিকারিক বলেন, ‘আগে ইউনিফর্মে বিশ্ব বাংলার লোগো থাকত। সরকার পরিবর্তন হলে সেই লোগো থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে নির্বাচনের আগে থেকেই সবাই একটু ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছিল। এই যাঁতাকলে ছাত্রছাত্রীরা ইউনিফর্ম থেকে বঞ্চিত।’
বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক পার্থপ্রতিম ভট্টাচার্য বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত পোশাক না পাওয়ায় খুদে পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়েছে। আমরা চাই, আগে যেমন স্কুলের হাতে ইউনিফর্ম দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হত, ফের সেটাই হোক। এতে সঠিক সময়ে পাওয়ার পাশাপাশি ইউনিফর্মও যেমন সঠিক মাপের হবে, তেমনই পোশাকের গুণগত মানও ভালো হবে।’
