উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের স্বাস্থ্যের অবক্ষয় হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব এবং অতিরিক্ত ধূমপানের কারণে অল্প বয়সেই হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। হাড়ের সমস্যা শরীরে জাঁকিয়ে বসার আগে পেশি দুর্বলতা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালশিয়ামের জোগান থাকা জরুরি। সাধারণত দুধকে ক্যালশিয়ামের প্রধান উৎস মনে করা হলেও পুষ্টিবিদরা বলছেন, ‘রাগি’ হতে পারে এর চেয়েও শক্তিশালী বিকল্প।
যাঁদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাঁদের জন্য রাগির দুধ একটি আদর্শ পানীয়। প্রতি ১০০ গ্রাম রাগি থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম পাওয়া সম্ভব।
কিভাবে তৈরি করবেন রাগির দুধ?
১. প্রথমে এক কাপ রাগি ভালো করে ধুয়ে ১০-১২ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন।
২. জল ঝরিয়ে একটি সুতির কাপড়ে মুড়িয়ে ২৪-৩৬ ঘণ্টা কোনো গরম জায়গায় রেখে দিন যতক্ষণ না অঙ্কুরোদগম হচ্ছে। অঙ্কুরিত রাগিতে পুষ্টিগুণ ও উৎসেচকের পরিমাণ বেশি থাকে এবং এটি হজম করা সহজ।
৩. এবার মিক্সিতে অঙ্কুরিত রাগি, আধ কাপ নারকেল এবং জল দিয়ে ভালো করে বেটে নিন। নারকেল এই পানীয়তে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যোগ করে।
৪. একটি সুতির কাপড়ে মিশ্রণটি ছেঁকে নিন। অবশিষ্ট অংশটি আবারও সামান্য জল দিয়ে বেটে ছেঁকে নিতে পারেন।
৫. তৈরি হওয়া দুধটি কাঁচা না খেয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। স্বাদ বাড়াতে সামান্য গুড় ও এলাচ গুঁড়ো মেশাতে পারেন। সকালে খালি পেটে এই দুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
রাগি খাওয়ার অন্যান্য গুণাগুণ:
-
অন্ত্রের স্বাস্থ্য: শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রাগি কার্যকর।
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এতে থাকা প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
-
আয়রনের জোগান: রাগিতে থাকা আয়রন এবং ভিটামিন সি রক্তাল্পতা দূর করতে এবং শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে।
