কোচবিহার: জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে যখন বারবার প্রশ্ন ওঠে, ঠিক তখনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করল একটি গ্রামীণ হাসপাতাল। নাকের ভিতর আটকে যাওয়া বেলুনের টুকরো বের করে দুই বছর নয় মাসের এক শিশুকন্যার প্রাণ বাঁচালেন আলিপুরদুয়ার ২ ব্লকের (Alipurduar) যশোডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালের (Yasodanga Rural Hospital) চিকিৎসক।
কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ওই শিশুকন্যার মা গত সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, শিশুর নাকের ভিতর একটি বেলুন ঢুকে গিয়েছে। পরিবারের লোকজন দ্রুত শিশুকে পুণ্ডিবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখান থেকে কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজে (MJN Medical School) স্থানান্তরিত করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, মেডিক্যাল কলেজে এক্স-রে করা হলেও উপযুক্ত চিকিৎসা মেলেনি, উল্টে শিশুকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করলে অস্ত্রোপচারের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়, যা শুনে আকাশ ভেঙে পড়ে পরিজনদের মাথায়।
অসহায় অবস্থায় শিশুর পরিবার যোগাযোগ করে যশোডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক প্রণব মণ্ডলের সঙ্গে। তাঁর পরামর্শ মতো শিশুকে দ্রুত সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনও জটিলতা ছাড়াই চিকিৎসক সফলভাবে শিশুর নাক থেকে বেলুনের টুকরোটি বের করে আনেন। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।
আলিপুরদুয়ার ২ ব্লকের বিএমওএইচ (BMOH) অর্পণ বিশই জানান, “এটি খুব বড় কোনও অস্ত্রোপচার ছিল না। মেডিকেল কলেজের বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে আমাদের এখানে সফলভাবে শিশুটির নাক থেকে বেলুন বের করা হয়েছে।” চিকিৎসকের এই তৎপরতায় স্বস্তির শ্বাস ফেলেছে শিশুর পরিবার।
