Cooch Behar | বধূ খুনে নাম জড়াল বিএলও’র পরিবারের

Cooch Behar | বধূ খুনে নাম জড়াল বিএলও’র পরিবারের

শিক্ষা
Spread the love


কোচবিহার: শুধুই মদ্যপানের ঝামেলার জেরে খুন হতে হয়েছে অম্বালিকা সরকারকে, নাকি রয়েছে অন্য কোনও রহস্য! সেই পর্দা ফাঁস করতে এবার তদন্তের গভীরে যেতে চাইছেন তদন্তকারীরা। কারণ, অভিযুক্ত বিএলও রাজদীপ বড়ুয়া সহ পরিবারের চারজনের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন মৃতার পরিবারের লোকজন। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় কেস নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে অভিযুক্ত বিএলও রাজদীপ বড়ুয়াকে পাঁচদিনের হেপাজতে নিতে চাইছিল পুলিশ। যদিও মঙ্গলবার অভিযুক্তকে কোচবিহার আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। এদিকে, মৃতার বাপের বাড়িতে তখন একরাশ শূন্যতা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার অভিযুক্ত বিএলও’র দাদা অমরদীপ বড়ুয়াকে পুলিশ কোচবিহার কোতোয়ালি থানায় ডেকে পাঠিয়েছিল। ডাক পেয়ে থানায় হাজিরা দিয়ে আসেন অমরদীপ। পরে বিকেলেও শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামাপ্রসাদপল্লির অভিযুক্ত বিএলও’র বাড়িতে পুলিশ এসে টহল দিয়ে যায়। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত বিএলও’র দাদা অমরদীপ বলেন, ‘পুলিশ আমাকে ডেকেছিল। থানায় গিয়েছিলাম। আমাকে কী করতে হবে, কোথায় কোথায় সই করতে হবে পুলিশ সেগুলি জানায়। পাশাপাশি বলেছে যখন কোর্টে ডাকবে, উপস্থিত হতে হবে।’ তাঁর কথায়, ‘বাড়িতে আমি, মা ও বাবা রয়েছি।’ সোমবারের ঘটনা প্রসঙ্গে অভিযুক্তর দাদা বলেন, ‘আমি তখন বাজার থেকে এসে স্নান করে খেতে বসেছি। হঠাৎ পাশের ঘর থেকে ভাইয়ের চিৎকার শুনি। মাকে বলি কী হয়েছে গিয়ে দেখো। এরপর আমি ও মা দুজনই যাই। দেখি ভাইয়ের বৌ নীচে পড়ে রয়েছে। আর ভাই মদ্যপ অবস্থায় ঘরের মধ্যে চিৎকার করছে। তখন আমরা ভাইয়ের বৌকে নিয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

এদিকে, তাঁদের নামে থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ার প্রসঙ্গে অমরদীপ বলেন, ‘এফআইআর করেছে তো কী  হয়েছে। আমরা অন্যায় করিনি। থানায় ডাকা হলে যাব। আর ভাই রাজদীপ যা অন্যায় করেছে, সে তার শাস্তি পাবে। কোর্ট যা নির্দেশ দেবে সেই হিসাবে তাকে শাস্তি পেতে হবে।’

অপরদিকে মৃতের পরিবার জানায়, ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার বিকালে অম্বালিকার মৃতদেহ কলাবাগানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়িতে থাকা মা, বোন ও অম্বালিকার ছেলে কান্নায় ভেঙে পড়ে। হাসিখুশি মিশুকে অম্বালিকার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় কলাবাগান এলাকা শোকস্তব্ধ। সন্ধ্যার আগে তাঁর দেহ কোচবিহার শহর লাগোয়া রবীন্দ্রনাথ রায় মহাশ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করা হয়। কোচবিহার শহরের সংশ্লিষ্ট এলাকার (৩ নম্বর ওয়ার্ড) কাউন্সিলার মায়া সাহা বলেন, ‘মৃতদেহ বাড়িতে আসার পর আমরা ওঁর বাড়ি গিয়েছিলাম। মেয়েটা খুবই ভালো ছিল। খুবই হাসিখুশি, মিশুকে ছিল। ওর এই আকস্মিক মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। আমরা সত্যিই খুব হতাশ।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *