Diabetes Myths vs Information | মিষ্টি খেলেই কি ডায়াবিটিস হয়?  

Diabetes Myths vs Information | মিষ্টি খেলেই কি ডায়াবিটিস হয়?  

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আমাদের দেশে জীবনযাত্রাজনিত যেসব রোগ সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, তার মধ্যে ডায়াবিটিস অন্যতম। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই আধুনিক যুগেও ডায়াবিটিস নিয়ে মানুষের মনে এমন কিছু ভুল ধারণা বা কুসংস্কার গেঁথে রয়েছে, যা তাঁদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে অনেকেই প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করতে দেরি করেন। ফলে রোগটি নীরবে শরীরের ভেতরে বাসা বেঁধে থাকে এবং একসময় তা জটিল আকার নেয় (Diabetes Myths vs Information)। লিখেছেন শিলিগুড়ির মণিপাল হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ আনন্দমোহন চক্রবর্তী

কেন হয় এই রোগ

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, ডায়াবিটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক শারীরিক অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আমাদের অগ্ন্যাশয় যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে, অথবা শরীর যদি সেই ইনসুলিনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়, তখনই এই সমস্যা তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে যদি এই অবস্থার চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে তা আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঙ্গ যেমন হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ এবং স্নায়ুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।

রোগের ধরন

সাধারণত আমরা দুই ধরনের ডায়াবিটিস বেশি দেখতে পাই। এর মধ্যে একটি টাইপ-১ ডায়াবিটিস, যা প্রধানত অটোইমিউন রোগের কারণে হয়ে থাকে। অন্যদিকে টাইপ-২ ডায়াবিটিস, যা সাধারণত জিনগত কারণ এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

ভুল তথ্যে যত গেরো

ডাক্তার হিসেবে আমি মনে করি, কার্যকরভাবে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দেওয়াল ভুল তথ্য বা অপপ্রচার। অনেকেই ডায়াবিটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না বা স্ক্রিনিং করাতে দেরি করেন, কারণ তাঁরা সমাজে প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণায় বিশ্বাস করেন। এই দেরির কারণে রক্তে শর্করার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না এবং ফলস্বরূপ হার্ট, কিডনি, চোখ ও স্নায়ুর ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি হয়। তাই এই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করার জন্য সঠিক তথ্য জানা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ধারণা বনাম বাস্তব

আমার চেম্বারে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলার সময় বেশ কিছু ভুল ধারণার সম্মুখীন হই। নীচে সেরকমই কয়েকটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা এবং তার পেছনের আসল সত্যটি তুলে ধরলাম –

ধারণা অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি খেলেই ডায়াবিটিস হয়।

বাস্তব ডায়াবিটিস আসলে জিনগত বৈশিষ্ট্য, স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো একাধিক কারণের সম্মিলিত প্রভাবে তৈরি হয়। শুধুমাত্র চিনি খাওয়াকেই এর একমাত্র কারণ হিসেবে দায়ী করা বিজ্ঞানসম্মত নয়।

ধারণা ডায়াবিটিস শুধু বয়স্ক মানুষজনেরই হয়ে থাকে।

বাস্তব অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং পারিবারিক ইতিহাসের কারণে ক্রমশ বেশি সংখ্যক অল্পবয়সি প্রাপ্তবয়স্ক, এমনকি কিশোর-কিশোরীরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ধারণা শরীরে কোনও উপসর্গ না থাকলে ডায়াবিটিস হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

বাস্তব ডায়াবিটিস অনেক ক্ষেত্রেই নীরব ঘাতক, যা কোনওরকম লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর আপনার শরীরে লুকিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত আবশ্যক।

ধারণা  ডায়াবিটিস ধরা পড়লেই রোগীরা মনে করেন তাঁদের সব ধরনের কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।

বাস্তব হোল গ্রেইন বা গোটা শস্য, ডাল, তাজা ফলমূল এবং শাকসবজির মতো স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেটগুলো সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করলে তা সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতেই পারে।

ধারণা ভেষজ উপাদানের মাধ্যমে ডায়াবিটিস পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব।

বাস্তব ভারত সরকার আয়ুষ চিকিৎসা পদ্ধতিকে দেশের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অপরিহার্য। বৈজ্ঞানিকভাবে ডায়াবিটিসের কোনও স্থায়ী নিরাময় এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এবং প্রেসক্রাইবড চিকিৎসার বদলে কখনোই পরীক্ষিত নয় এমন ভেষজ উপাদানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করা উচিত নয়। চিকিৎসার যে কোনও পরিবর্তনের আগে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

ভয় নয়, সচেতন হন

আমি সবাইকে এটাই বলতে চাই যে, ডায়াবিটিস নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সময়মতো রোগ নির্ণয়, নিয়মিত শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সঠিক মাত্রায় শারীরিক পরিশ্রম এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ সঠিকভাবে মেনে চললে ডায়াবিটিসকে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ভিত্তিহীন কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে, সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। সচেতনতাই সুস্থ থাকার প্রথম ও প্রধান শর্ত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *