তন্দ্রা চক্রবর্তী দাস, কোচবিহার: কয়েক বছর হল শেষ হয়ে গিয়েছে মদনমোহন দেবের মূর্তির ছবি দেওয়া রুপোর স্মারক মুদ্রা। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই তিন ধরনের স্মারক মুদ্রা বের করেছিল দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড। মুদ্রার ব্যাপক চাহিদা থাকায় কয়েক বছর পর ফের তা তৈরি করতে হয়। কিন্তু সেই মুদ্রাগুলি শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা পুনরায় প্রকাশের কোনও উদ্যোগ নেয়নি ট্রাস্ট বোর্ড। ফলে কোচবিহারবাসী (Cooch Behar) সহ বহু পর্যটক মুদ্রা সংগ্রহ করতে এসে নিরাশ হয়ে ফিরছেন।
মদনমোহনবাড়িতে পুজো দিতে এসে ভক্তরা সোনা-রুপোর অলংকার দান করেন। সেগুলি সিন্দুকে জমা থাকে। পরিমাণ বাড়লে সেই সোনা-রুপো গলিয়ে বিক্রি করে টাকা ট্রাস্ট বোর্ডে জমা করা হয়। তবে এর জন্য জেলা জজের অনুমতি নিতে হয়। প্রথম যেবার মদনমোহনের স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করা হবে বলে প্রশাসন থেকে স্থির করা হয়েছিল সেই সময় দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে তৎকালীন জেলা শাসক মোহন গান্ধি জেলা জজের অনুমতির জন্য চিঠি করেছিলেন। জেলা জজের অনুমতির পর মদনমোহনবাড়ির প্রাঙ্গণেই রুপো গলিয়ে ২০, ১০ এবং ৬ গ্রামের মুদ্রা বের করা হয়। মুদ্রার একপিঠে ছিল মদনমোহনবাড়ির ছবি, অন্যদিকে মদনমোহন বিগ্রহ। একটিতে দক্ষিণাকালীর মূর্তিও ছিল।
পরবর্তীতেও একই নিয়ম মানা হয়েছিল। তবে, ২০২৪-এ মুদ্রা বের করার জন্য জেলা জজের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও কোনও উত্তর আসেনি। তারপর আর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে ট্রাস্ট বোর্ডের বড় আয়ের পথও বন্ধ রয়েছে। বিশিষ্ট আইনজীবী পার্থসারথি দেবের কথায়, ‘যেখানে দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডকে আয়ের দিক থেকে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যেখানে নিশ্চিত আয়ের সম্ভাবনা সেদিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন। অনুমতির জন্য একবার চিঠি দিয়ে দায় না এড়িয়ে আরও চিঠি দেওয়ার দরকার ছিল।’
সূত্রের খবর, মদনমোহনবাড়িতে প্রচুর রুপো জমেছে। তা দিয়ে অনায়াসেই মুদ্রা তৈরি সম্ভব। ট্রাস্ট বোর্ডের দোকানে রুপোর কয়েনের খোঁজ করছিলেন বেলঘরিয়ার বাসিন্দা আবির চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পর কোচবিহারে এসেছি। মদনমোহনের রুপোর কয়েনের কথা শুনেছি। তাই ভাবলাম একটা কিনে নিয়ে যাই। কিন্তু এখন আর পাওয়া যায় না বলছে।’
কবে ফের মিলবে এই মুদ্রা? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা শাসক জিতিন যাদব বলেন, ‘এটি একটি লম্বা প্রক্রিয়া। আমরা রুপোর কয়েনের বিষয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তাভাবনা শুরু করেছি। আলোচনা করে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

