উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা এতটাই মগ্ন যে, নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখার ফুরসতটুকুও নেই। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতের খাবার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময়ের চরম অনিয়ম। কাজের চাপে দুপুরের খাবার খেতে খেতে বিকেল গড়িয়ে যায়, আবার রাতের খাবার সারতে হয় গভীর রাতে। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে ডেকে আনতে পারে আলসারের মতো মারাত্মক রোগ (Consuming Habits)।
কেন হয় এই সমস্যা?
আমাদের পাকস্থলীতে খাবার হজমের জন্য অবিরাম অ্যাসিড নিঃসৃত হয়। যখন আমরা সঠিক সময়ে খাবার খাই না, তখন এই অ্যাসিড পাকস্থলীর সুরক্ষাবলয় বা আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে। দীর্ঘস্থায়ী এই অনিয়মের ফলে পাকস্থলীর আস্তরণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ‘এইচ পাইলোরি’ (H. pylori) ব্যাকটিরিয়ার আক্রমণে সেখানে ক্ষত বা আলসার সৃষ্টি হয়।
সতর্ক হওয়ার লক্ষণ:
শরীরের দেওয়া ইঙ্গিতগুলো উপেক্ষা করা মোটেও ঠিক নয়। ঘন ঘন অম্বল, পেটের ওপরের অংশে জ্বালাপোড়া, পেট ফুলে থাকা, বমি ভাব কিংবা অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। এছাড়া, ক্রমাগত ঢেকুর ওঠা, মুখে টক স্বাদ বা হজমের সমস্যা ৪-৫ দিনের বেশি স্থায়ী হলে তাকে হালকাভাবে নেওয়া চলবে না। অনেক ক্ষেত্রে মলের সঙ্গে রক্তপাত বা রক্তবমির মতো গুরুতর লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
প্রতিকারের উপায়: চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই রোগ সারে না, প্রয়োজন জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন।
সময়ে খাওয়া: দিনের সব কটি খাবার নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার, প্রোটিন ও ভিটামিন রাখুন।
বর্জনীয়: ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস আলসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তাই এগুলি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ: গ্যাসের ওষুধ বা ঘরোয়া টোটকায় সাময়িক উপশম হলেও, সমস্যা জিইয়ে রাখবেন না। নিয়মিত এন্ডোস্কোপি ও রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

