উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। এরই মাঝে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দিল্লি ও এনসিআরে (Delhi-NCR) দ্বিতীয়বারের জন্য বাড়ল কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজি-র দাম (CNG Value Hike)। প্রতি কেজিতে নতুন করে ১ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানী দিল্লিতে এখন সিএনজি-র দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৮০.০৯ টাকা। অন্যদিকে নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা এবং গাজিয়াবাদে এই দাম বেড়ে হয়েছে ৮৮.৭০ টাকা। এর ঠিক দু’দিন আগেই সিএনজি-র দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় বাজারে। সিএনজি-র পাশাপাশি পেট্রোল এবং ডিজেলের দামও গত চার বছরের মধ্যে এককালীন সর্বোচ্চ (লিটার প্রতি ৩ টাকা) বাড়ানো হয়েছে (Gasoline costs)। দিল্লিতে এখন এক লিটার পেট্রোলের দাম ৯৭.৭৭ টাকা এবং ডিজেল ৯০.৬৭ টাকা। কলকাতায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০৮.৭৪ টাকা এবং ৯৫.১৩ টাকা। বাণিজ্য নগরী মুম্বইতেও সিএনজি-র দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি কেজি ৮৪ টাকা।
বিশ্ববাজারের তুলনায় এই বৃদ্ধি এখনও সামান্য, যার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি লিটার প্রতি পেট্রোলে ১১ টাকা এবং ডিজেলে ৩৯ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি সইছে। ইতিমধ্যেই শেল (Shell)-এর মতো বেসরকারি সংস্থাগুলি পেট্রোল-ডিজেলের দাম অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারের ওপর চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত কমাতে এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। এপ্রিল ২০২৬-এ দেশের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি ৮.৩ শতাংশে পৌঁছানোয়, জ্বালানির এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি আগামী দিনে আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
