হুগলি জুড়ে তোলাবাজির রোগ পুরনো। নব্বই দশকের গোড়া থেকে হুব্বা শ্যামল-বাঘার মতো দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়াত। এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠে তারা। মাথায় হাত ছিল তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের! সেই ভরসাতেই দাপট বেড়েছিল। বাঘাতো ছিলই, এ দিকে হুব্বার হাত ধরেই উঠে আসে নেপু গিরি, রমেশ মাহাতোরা। কোন্নগর, রিষড়া, শ্রীরামপুর, চাঁপদানি এলাকাজুড়ে দাপিয়ে বেড়াত তারা। ২০১১ সালের পালাবদলের পরই খুন হয় হুব্বা। নাম জড়ায় নেপু, রমেশের। এ দিকে চুঁচুড়ায় সঞ্জীব ও টোটনের মতো দুষ্কৃতীরা সেই সময়ে দাপিয়ে বেড়াত। দিনেকালে আরও নতুন নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজ্যে ফের পালাবদলের পর বিজেপি সরকার কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারপরই তোলাবাজদের কোমর ভাঙতে তৎপর হুগলি জেলা প্রশাসন। হুগলির পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সানিকুমার রাজের সাফ মন্তব্য, “তোলাবাজির বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে।”
আরও পড়ুন:
গত কয়েক দশকে হুগলিতে অনেক কারাখানা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু সমাজবিরোধীদের অত্যাচার কমেনি। যে কয়টি হাতেগোনা কারখানা রয়েছে তার মালিকদের দিতে হচ্ছে মাসোহারা! তাছাড়াও জমি কেনাবেচা, পুরোনো কারখানার হাতবদল কিংবা প্রোমোটিং, যে কোনও কাজেই তোলা দেওয়াটাই যেন অলিখিত নিয়ম! এবার তা বন্ধ করতে তৎপর পুলিশ। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিক অর্ণব বিশ্বাস সাফ জানিয়েছেন, কোনও এলাকাতেই সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।
ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তোলাবাজি সহ্য করবে না তাঁর সরকার। তারপরই ডানকুনি, উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর-সহ সমস্ত থানায় টোটো অটো মালিক থেকে চালক সকলকে ডেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কাউকে ‘হপ্তা’ দিতে হবে না। কেউ ভয় দেখলে সেটা যেন পুলিশকে জানানো হয়। অর্ণব বিশ্বাস বলেন, “তোলাবাজি আর বরদাস্ত করা হবে না।” ইতিমধ্য়েই তোলাবাজির অভিযোগে পাণ্ডুয়ায় বেলুন ধামাসিন গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য কৃপাসিন্ধু ঘোষ-সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলাজুড়ে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।
শ্রীরামপুরের বিজেপি বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্যের কথায়, “নির্বাচনের সময় আমাদের প্রতিশ্রুতিই ছিল ভয় আউট ভরসা ইন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তোলাবাজি-সিন্ডিকেট রাজ আর চলবে না।” সিপিএমও তোলাবাজি রুখতে পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
