উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রথযাত্রা (Rath Yatra 2026) উৎসব এবং আগামী শ্রাবণ মাসের পুণ্যার্থীদের জন্য একগুচ্ছ বড়সড়ো ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। সোমবার রাজ্যের বিধায়ক, জেলাশাসক এবং প্রশাসনের সর্বস্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল সমন্বয় বৈঠক করেন তিনি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের কর্তব্য। আর সেই লক্ষ্যেই এবার সরকারিভাবে রথযাত্রায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রথযাত্রা উৎসব পালনের জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সবরকম সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যপূর্ণ রথযাত্রা মেলায় বিশেষ ‘সেবা কেন্দ্র’ গড়ে তুলবে প্রশাসন। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পরিচালনায় এই কেন্দ্রগুলি সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে পরিচালনা করবে। এর পাশাপাশি, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াও এদিন শুরু হয়। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম বছর তালিকা তৈরির ত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন… আগামিদিনে ত্রুটিমুক্ত তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হবে। এখন যে কাজ শুরু হলো, তা আগামীতে মহীরূহে পরিণত হবে।’ এই অনুদানের টাকা মঠ ও মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য খরচ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ধর্মীয় ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী পরিকল্পনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য বাজেটে ইতিমধ্যে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ রাখা হয়েছে। এর অধীনে প্রাচীন মঠ ও মন্দিরের সংস্কার এবং সেগুলিকে হেরিটেজের আওতায় আনার কাজ দ্রুত গতিতে চলবে। আগামী ২ বছর ধরে এই ধর্মীয় স্থানগুলির সামগ্রিক উন্নতি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মোট ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এবারের শ্রাবণ মেলা (Shravan Mela) নিয়েও এক চমকপ্রদ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আপাতত রাজ্যের তিনটি বিখ্যাত শিব মন্দিরকে বিশেষ পরিকল্পনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে—হুগলির তারকেশ্বর ধাম, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং আলিপুরদুয়ারের জয়ন্তী এলাকার একটি শিব মন্দির। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পুলিশের সহায়তা ক্যাম্প এবং বিশ্রামের জায়গা তৈরি করা হবে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবহাওয়া ঠিক থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জল ঢালতে যাওয়া পুণ্যার্থীদের ওপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে! সরকারি সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুলাই নিজে তারকেশ্বর যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ১৬ জুলাই কলকাতায় ইসকনের রথযাত্রায় উপস্থিত থাকবেন।

