উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বেআইনিভাবে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ উঠেছে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ‘সাপোর্ট’ ছাড়া এই ধরনের অপরাধমূলক সিন্ডিকেট চালানো কখনই সম্ভব ছিল না। রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ যেভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, তার কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন যে এর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের খুঁজে বের করবে পুলিশ। একই সঙ্গে টুলু মণ্ডলের যত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং যেগুলি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, তার একটি বিস্তারিত খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি।
উল্লেখ্য, বীরভূমে (Birbhum) টুলুর ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়িতে সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার হওয়ার পর মিনারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সিউড়ির আদালত তাঁকে আট দিনের পুলিশি হেপাজতে পাঠায়। পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে যে উদ্ধার হওয়া সোনা দুবাই থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, সরকারের ছত্রছায়ায় এত দিন ধরে চলা এই বিশাল দুর্নীতি চক্রের সঙ্গে সকলেই জড়িত ছিলেন। তবে বীরভূম পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সঠিক সুযোগ পেলে যে এ রাজ্যের পুলিশও কেন্দ্রীয় এজেন্সির মতো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে, তা তারা প্রমাণ করে দিয়েছেন।
দুর্নীতির জেরে সরকারি রাজকোষের ক্ষতির হিসেব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে পাথর খাদান থেকে নামমাত্র রাজস্ব আসলেও, রাজ্যে বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র এক মাসেই একটি জেলা থেকে ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বেশি এবং প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সোনা উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি টুলুর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মোট ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে, নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা, প্রচুর গয়না এবং নোট গোনার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও টুলুর ৮৩টি ট্রাক, ডাম্পার, ২১টি সম্পত্তি যার মধ্যে ৭টি বাড়ি, খামারবাড়ি, পেট্রোল পাম্প, ইটভাটা, পার্কিং, পাথর খাদান, ক্রাশার এবং প্রায় ৩০০ বিঘা জমি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া বর্তমানে জোরকদমে চলছে।

