মানিকগঞ্জ: সাতসকালে নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কাছে যেতেই দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। জলের ওপর ভেসে উঠছে একের পর এক বিশালাকার বোয়াল, আইড় আর বাইম মাছ। কোনোটি আধমরা, কোনোটি নিথর (Useless Fish Caught)। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাল আর থলি হাতে নদীতে নেমে পড়েন আবালবৃদ্ধবনিতা। শুক্রবার জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) সদর ব্লকের খারিজা বেরুবাড়ি এলাকায় পাঙ্গা নদীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সকাল থেকেই খারিজা বেরুবাড়ি-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় (Kharija Berubari) নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামে। ২ থেকে ৩ কেজি ওজনের বোয়াল বা বাইম মাছ সহজেই ধরা পড়ায় খুশির আমেজ ছিল স্থানীয়দের মধ্যে। সংগৃহীত মাছের বড় অংশই বাড়িতে রান্নার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, আবার অনেককে দেখা যায় ঘুঘুডাঙ্গা হাটে সেই মাছ বিক্রি করে ‘লক্ষ্মী লাভ’ করতে।
তবে এই আনন্দের পেছনে লুকিয়ে আছে এক বড় আশঙ্কার মেঘ। পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, এই ঘটনা স্বাভাবিক নয়। কেন এভাবে মাছ মরে ভেসে উঠছে, তা নিয়ে দুটি প্রধান কারণ উঠে আসছে:
স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, রাতের অন্ধকারে বেশি মাছ ধরার লোভে অসাধু শিকারিরা নদীতে বিষ প্রয়োগ করেছে। এর ফলে নদীর জলজ বাস্তুসংস্থান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অন্য একটি মহলের মতে, গতরাতে বৃষ্টির ফলে পার্শ্ববর্তী চা বাগানগুলোর কীটনাশক ও রাসায়নিক মিশ্রিত জল নদীতে এসে পড়েছে। বিষাক্ত এই জলের প্রভাবেই মাছের মড়ক শুরু হয়েছে।
পরিবেশবিদরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বিষাক্ত বা রাসায়নিকের প্রভাবে মরে যাওয়া মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বাজারে এই মাছ বিক্রি হওয়া সাধারণ মানুষের অজান্তেই বড় বিপত্তি ডেকে আনতে পারে।
