কিশনগঞ্জ: প্রেমের মোহে প্রেমিকের টানে নিজের পরিবারকে চিনতে অস্বীকার করার ‘শাস্তি’। নিজের জীবন্ত মেয়ের প্রতীকী শবদাহ করে রীতিমতো বৈদিক নিয়মে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ও গ্রামের মানুষকে ভোজ খাওয়ালেন এক অসহায় ও ক্ষুব্ধ বাবা-মা। কিশনগঞ্জ (Kishanganj) সংলগ্ন বিহারের কাটিহার জেলার রৌতারা থানা এলাকার খুদনা গ্রামে এই নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুদনা গ্রামের এক দলিত সম্প্রদায়ের কিশোরী কিছুদিন আগে একই গ্রামের এক উঁচু জাতের যুবকের প্রেমে পড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। মেয়ের পরিবারের তরফে রৌতারা থানায় একটি অপহরণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে, ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর পুলিশ তৎপরতা দেখিয়ে ওই প্রেমিক-প্রেমিকাকে গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে আসে।
থানা-পুলিশের পর কিশোরীর বাবা মুচুন পাসোয়ান ও মা স্নেহের টানে মেয়েকে একটি শর্তে ক্ষমা করতে রাজী হয়েছিলেন। শর্ত ছিল, পারিবারিক সম্মান ও জাতের মর্যাদা রক্ষার্থে ওই প্রেমিককে ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে ওই কিশোরী নিজের বাবা-মা, ভাইবোনদের চিনতেই অস্বীকার করে এবং কোনো অবস্থাতেই প্রেমিকের হাত ছাড়তে রাজি হয় না।
মেয়ের মুখে এই কথা শোনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বাবা ও দাদু। পারিবারিক সম্মান ও জাতের মান-মর্যাদা রক্ষার তাগিদে গ্রামের সমাজপতিদের উপস্থিতিতে এক কঠোর ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। ধরে নেওয়া হয়, মেয়ে তাঁদের জন্য মৃত। এরপরই শনিবার ঘাস ও কাপড় দিয়ে ওই মেয়ের একটি অবিকল প্রতীকী পুতুল বা মৃতদেহ তৈরি করা হয়। সনাতন হিন্দু ধর্মের রীতি মেনে ‘রাম নাম সত্য হ্যায়’ স্লোগান তুলে বের করা হয় শ্মশান যাত্রা। শ্মশান ঘাটে বৈদিক মন্ত্র পড়ে চিতায় সেই পুতুলের সৎকার করা হয়।
এখানেই শেষ নয়, রবিবার নিয়ম মেনে মেয়ের পারলৌকিক ক্রিয়া অর্থাৎ শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং নিয়ম মেনে গ্রামের সমস্ত লোকজনকে ডেকে শ্রাদ্ধের ভোজও খাওয়ানো হয়। এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা মুচুন পাসোয়ান ও ঠাকুরদা রাম প্রকাশ পাসোয়ান কান্নায় ভেঙে পড়লেও, তাঁদের দাবি— যে মেয়ে পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেয়, সে বেঁচে থাকলেও তাদের কাছে মৃত। এই অদ্ভুত অথচ করুণ ঘটনার সাক্ষী হয়ে খুদনা গ্রামের বাসিন্দারাও রীতিমতো মর্মাহত।
