উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার বীরভূম সফরে এসে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। শনিবার মা তারার আর্শীবাদ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিগত সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানান। অতীত সরকারের কর্মপদ্ধতিকে তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার যেকোনো উন্নয়নের প্রস্তাবের ক্ষেত্রেই সর্বদা ‘না, না, না’ বলত। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই নেতিবাচক পথে হাঁটবে না। উন্নয়নের প্রশ্নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ সদর্থক মনোভাব নিয়ে চলবে এবং তাঁদের নীতি হবে সব ব্যাপারেই ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ’।
এদিন তারাপীঠে (Tarapith) পৌঁছে মন্দির চত্বরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি আগামী কৌশিকী অমাবস্যা উৎসব সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করার কথা জানান। বিশেষ করে বীরভূমের অত্যন্ত আলোচিত শিল্প প্রকল্প ‘ডেউচা পাঁচামি’র ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী সুরে একবাক্যে বলেন, ‘সব হবে।’ অর্থাৎ আগের সরকারের জমানায় থমকে থাকা বা ঝুলে থাকা নীতি ও প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়িত করতে বর্তমান সরকার যে কোনো রাখঢাক না রেখেই এগিয়ে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
তারাপীঠের কর্মসূচি সেরে রামপুরহাটের (Rampurhat) রক্তকরবী মঞ্চে রাজ্যের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই সভাকে কেন্দ্র করেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিধানসভায় পালাবদলের পর তৃণমূল ছেড়ে যে ২০ জন লোকসভার সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন, তাঁদেরই অন্যতম বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় এবং বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হন। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংসদ শতাব্দী রায় জানান, তাঁর হাতে অঞ্চলের উন্নয়ন সংক্রান্ত আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে এবং সুযোগ পেলে তিনি তা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন। একই সুরে সাংসদ অসিত মালও জানান, তাঁর এলাকার কিছু বিশেষ কথা বলার রয়েছে এবং সামান্য সুযোগ পেলেও তিনি তা তুলে ধরবেন। শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে থাকার কথা হাসনের তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখেরও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো জমানার নীতি ভেঙে বিরোধী শিবিরের সাংসদ-বিধায়কদের নিয়েও যেভাবে প্রশাসনিক সমন্বয় ও উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাতে আগামীদিনে বীরভূমের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চিত্রে এক বড় পরিবর্তন আসার ইঙ্গিত মিলছে। তারাপীঠের মাটি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘সবাইকে নিয়ে চলার’ নীতি ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

