উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বর্ষাকালের ঠান্ডা-স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সর্দি-কাশি, গলা খুসখুস এবং বদহজমের মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দেয়। এই মরশুমি অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত একটি মশলা—লবঙ্গ জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে লবঙ্গ ভেজানো জল পানে স্বস্তি মিলতে পারে নিমেষেই (Clove Water Advantages)।
লবঙ্গের মধ্যে থাকা সক্রিয় যৌগ ‘ইউজেনল’-এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, প্রদাহরোধী ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ঠান্ডা লাগা, জ্বর ভাব কিংবা সর্দি-কাশির মতো সমস্যায় এই পানীয় অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি, এটি হজমশক্তি উন্নত করতেও সাহায্য করে। লবঙ্গের উষ্ণ প্রকৃতি পাচকরসের নিঃসরণ বাড়িয়ে খাবার দ্রুত হজম করায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এর অ্যান্টিসেপটিক গুণের কারণে মুখগহ্বরের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয় এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও এটি দারুণ কাজ করে।
সহজেই ঘরে এই পানীয় তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য ২-৩টি লবঙ্গ সামান্য থেঁতো করে এক গ্লাস জলে ফুটিয়ে নিতে হবে। জল ভালোভাবে ফুটে ওঠার পর আঁচ কমিয়ে আরও ৫-১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর জলটি ছেঁকে সামান্য ঠান্ডা করে চায়ের মতো পান করতে হবে। স্বাদ বাড়াতে এবং ভিটামিন সি-র পুষ্টি যোগ করতে এর সঙ্গে সামান্য লেবুর রসও মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
তবে সকলের জন্য লবঙ্গের জল সমান উপকারী নয়। যাঁদের লবঙ্গে অ্যালার্জি রয়েছে, যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান কিংবা অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই পানীয় এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

