চ্যাংরাবান্ধা: বঙ্গভঙ্গের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে গড়া সম্প্রীতি ও ঐক্যের আবহ যেন মূর্ত হয়ে উঠল চ্যাংরাবান্ধা (Changrabandha) আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে। কাঁটাতারের গণ্ডি পেরিয়ে দুই বাংলার সাধারণ মানুষ ও আধিকারিকদের অংশগ্রহণে মহাসমারোহে পালিত হল রাখিবন্ধন উৎসব। আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর চ্যাংরাবান্ধায় ইমিগ্রেশনের কর্মীরা এদিন বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতে রাখি পরিয়ে বন্ধুত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। এই পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ওপার বাংলার বাসিন্দা সতীনাথ রায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, এই পবিত্র বন্ধনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে (Border)।
শুধু ইমিগ্রেশন চত্বরই নয়, গোটা চ্যাংরাবান্ধা জুড়েই এদিন ছিল উৎসবের আমেজ। ভোটবাড়ির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক সীমান্তে গিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানদের হাতে রাখি পরানো হয়। সংস্থার সম্পাদক মাহতাব আলম বলেন, “যারা নিজেদের উৎসব অনুষ্ঠান ভুলে আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত তাদের সঙ্গে উৎসব পালন করে খুব ভালো লাগছে।”
অন্যদিকে, চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর ও মেখলিগঞ্জ (Mekhliganj) ব্লক যুব কল্যাণ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে চ্যাংরাবান্ধা জুনিয়র বেসিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাখি উৎসবের পাশাপাশি একটি অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা নামতেই সেখানে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি, ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) পক্ষ থেকেও চ্যাংরাবান্ধা বাজারের বিভিন্ন এলাকায় পথচারী ও দোকানদারদের রাখি পরিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। সব মিলিয়ে ভূখণ্ড আলাদা হলেও উৎসবের আনন্দ এবং মিলনের সুর এদিন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় চ্যাংরাবান্ধায়।

