উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেক্স: ফের ভাঙন তৃণমূলে (TMC)। এবার দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন (Resigns) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র (Netaji’s Grandnephew) চন্দ্র কুমার বসু (Chandra Kumar Bose)। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। ইস্তফার কারণ হিসেবে তিনি পুরোপুরি ব্যক্তিগত কারণকেই তুলে ধরেছেন (Private Causes)। একদা বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত চন্দ্র বসু ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। তবে চার মাসের মাথায় তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘ দিন যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি সে বছরই বিধানসভা ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৬ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সহ-সভাপতিও করা হয়। তবে ২০২৩ সালে তিনি বিজেপি থেকে পদত্যাগ করেন। সেই সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, নেতাজির অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদী আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে পদ্ম শিবির। এরপর চলতি বছর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বিজেপিতে যোগদান তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম ভুল ছিল। একটি সার্বিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির বার্তা দিয়ে তিনি জোড়াফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন।
রাজনীতিতে আসার আগে কর্পোরেট জগতে সফল কেরিয়ার গড়েছিলেন চন্দ্র কুমার বসু। তিনি প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা শরৎচন্দ্র বসুর পৌত্র এবং অমিয় নাথ বসুর পুত্র। লন্ডনের হেনডন কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং আইআইএম কলকাতা (IIM Calcutta) থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি টাটা স্টিলে ১৮ বছর দায়িত্ব সামলেছেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে তিনি নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাও গড়ে তোলেন। এছাড়া ‘ওপেন প্ল্যাটফর্ম ফর নেতাজি’-র মুখপাত্র হিসেবে নেতাজি সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়েছেন তিনি। তৃণমূল ছাড়ার বিষয়ে চন্দ্র কুমার বসুর সিদ্ধান্তের পর দলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

