Trinamool Congress | তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল! ওম বিড়লাকে দেওয়া চিঠিতে প্রকাশ্যে ১৯ বিক্ষুব্ধ সাংসদের সই

Trinamool Congress | তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল! ওম বিড়লাকে দেওয়া চিঠিতে প্রকাশ্যে ১৯ বিক্ষুব্ধ সাংসদের সই

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গ রাজনীতিতে গত এক সপ্তাহে চলেছে পাটিগণিতের প্রবল অঙ্ক কষা। হারাধনের কয়টি ছেলের মধ্যে রইল বাকি কয়টি? এ নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে অলিন্দে তুমুল চর্চা। রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের (Trinamool Congress) পরিষদীয় দলের বৈপ্লবিক ভাঙনের পরেই অপেক্ষা ছিল সংসদীয় দলেও ধস নামার। জাতীয় রাজনীতির নিম্নকক্ষে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘর ঠিক কারা ভাঙছেন, সেই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা ও তরজা ছিল তুঙ্গে। কিছু নাম স্পষ্ট ভাবে সামনে আসলেও, রাজনীতির জটিল সমীকরণের পিছনে অনেকের নামেই ছিল ধোঁয়াশা। কিন্তু অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সামনে এল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) অফিসে জমা পড়া সেই চাঞ্চল্যকর চিঠি এবং তাতে সই করা ১৯ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের নাম।

সূত্রের খবর, লোকসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতক দাবি করে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই চিঠি স্পিকারের দপ্তরে জমা পড়েছিল। চিঠিতে তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছে নিজেদের পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) দাবি করেন, মুখ্য সচেতক হিসেবে বাকি সতীর্থদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা জনাদেশ মেনে নিয়েছি এবং বিশ্বাস করি যে আমাদের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথচলা এনডিএ-র (NDA) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। সেই কারণেই লোকসভার স্পিকারকে জানানো হয়েছে যে আমরা এনডিএ-র অংশ হতে চাই।”

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ১৯ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদের তালিকা: ১. কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ২. শতাব্দী রায়, ৩. বাপি হালদার, ৪. ডা. শর্মিলা সরকার, ৫. প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, ৬. জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, ৭. অসিত কুমার মাল, ৮. অরূপ চক্রবর্তী, ৯. রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ১০. সায়নী ঘোষ, ১১. খলিলুর রহমান, ১২. আবু তাহের খান, ১৩. ইউসুফ পাঠান, ১৪. মিতালি বাগ, ১৫. মালা রায়, ১৬. কালীপদ সোরেন, ১৭. দীপক অধিকারী (দেব), ১৮. জুন মালিয়া, ১৯. পার্থ ভৌমিক।

এই তালিকায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ও চমকে দেওয়ার মতো নাম হল ঘাটালের সাংসদ-অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেবের (Deepak Adhikari)। গত ৮ জুন বিজেপির ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বিদ্রোহী শিবিরের মিটিংয়ে দেবের উপস্থিতির খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ার জল্পনা উড়িয়ে তার ঠিক পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী ও শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক শেষে দেব দাবি করেছিলেন, লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের পাশে তিনি নেই। তিনি আবেগঘন সুরে বলেছিলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভালোবাসা সারা জীবন থাকবে। যত দিন বেঁচে থাকব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি। তৃণমূলের সাংসদ হয়ে এসেছি। আমারও দায়িত্ব মানুষের স্বপ্নপূরণ করা। তবে নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না।’ তবে দেব ‘নতুন তৃণমূল’ বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট করেননি। কিন্তু এর পরেই সামনে আসা ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের চিঠিতে তাঁর স্বাক্ষর মেলায় তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক (political) মহলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে ২৯টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তার মধ্যে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হাজি নুরুল ইসলাম মারা গিয়েছেন। ফলে বাকি ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জনই পৃথক ব্লক গঠনের দাবিতে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। অর্থাৎ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রইল মাত্র ৯ জন সাংসদ। কিন্তু এই ৯ জনের মধ্যেও অনেকের গলার সুরই এখন ‘বেসুরো’ বলে খবর। ফলে শীঘ্রই তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ধার ও ভার যে আরও বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। লোকসভার পাটিগণিতের ভিত্তিতে এই ১৯ সংখ্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Regulation) ফাঁদ এড়াতে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন হয়, যা রেবেল সাংসদরা ইতিমধ্যেই ছুঁয়ে ফেলেছেন।

ভেতরের খবর, গত ৯ জুন দিল্লির ৯ মতিলাল নেহেরু মার্গে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে আয়োজিত বৈঠকে প্রথম দফায় মোট ১৪ জন সাংসদ সই করেছিলেন। পরবর্তীতে আরও ৫ সাংসদ— মালা রায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে স্বাক্ষর করেন। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ আগামী সোমবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করবেন। এনডিএকে সরকারিভাবে সমর্থন ও তাঁদের বসার জায়গা আলাদা করার জন্য পুনরায় একটি চিঠি দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে আগামী রবিবার রাতেই দিল্লি পৌঁছে যাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। ওই দিন রাতেই দিল্লিতে একটি বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *