অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার : অবশেষে চূড়ান্ত হল। দুটো না তিনটে নয়, আপাতত একটিই বাঘিনী ছাড়া হবে বক্সার জঙ্গলে। আগামী ২ অক্টোবর অনুষ্ঠান করে বক্সা টাইগার রিজার্ভে তৈরি করা এনক্লোজারে বাঘিনী ছাড়া হবে। বন দপ্তর প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল- ২৯ জুলাই আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসের দিন জঙ্গলে একটি বাঘিনী ছাড়া হবে। কিন্তু সেই দিনক্ষণ পিছিয়ে ২ অক্টোবর করা হয়। বন দপ্তর ঠিক করেছিল যেহেতু সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই দুটি বা তিনটি বাঘ ছাড়া যেতে পারে। কয়েকদিন আগে রাজাভাতখাওয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক শেষে বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ জানান, একটি বাঘ ও বাঘিনী ছাড়ার প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছে। সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সেটা এখন সম্ভব হচ্ছে না। রবিবার আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় বনমন্ত্রী জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। আপাতত একটি বাঘিনী ছাড়া হবে।
মনোজ বলেন, ‘২ অক্টোবর একটি বাঘিনী ছাড়া হবে। সেটির উপর নজরদারি চলবে। এরপর দু’-তিন মাস পর আরেকটি বাঘ ছাড়া হবে। বক্সায় বাঘ রাখতে যা যা করা দরকার, সবই করা হচ্ছে। নেওয়া হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।’ অন্যদিকে বনকর্তাদের বক্তব্য, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কী সমস্যা হয় সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তাই আগে একটি বাঘ এনে পরীক্ষা করা হবে। একটি বাঘ সামলানো অনেকটা সহজ হবে। বনকর্মীদের অভাবের বিষয়টিও দেখতে হচ্ছে। সবকিছু ঠিকমতো সামলানো গেলে এবং ওই বাঘ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে আরও সঙ্গী আনার বিষয়টি ভাববে বন দপ্তর। এদিকে, বাঘের উপর নজরদারি চালাতে তিনটি দল ২৪ ঘণ্টা টহল দেবে। দলগুলিতে বনকর্মীদের সঙ্গে থাকবে কুনকি হাতিও।
বক্সা টাইগার রিজার্ভে বিভিন্ন সময় পরিযায়ী বাঘের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এবছরও জানুয়ারি মাসে বাঘের ছবি ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ে। বিগত কয়েক বছরে বারবার বাঘের উপস্থিতি নজরে আসায় জঙ্গলে বাঘিনী ছাড়া হচ্ছে। অসম বা ভুটান থেকে এবার বক্সায় বাঘ এলে যেন স্থায়ীভাবে থেকে যায় সেজন্যই প্রথমে বাঘিনী ছাড়া হবে।
বক্সা টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শুধু রাজ্যের শীর্ষ বনকর্তারা যোগাযোগ রাখছেন এমনটা নয়। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রকের আধিকারিকরাও যোগাযোগ রাখছেন। প্রয়োজনীয় কী কী কাজ হচ্ছে, সেদিকে নজর রয়েছে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটিরও। বাঘ এনে কীভাবে রাখা হবে, যে যে গাইডলাইন দেওয়া রয়েছে সেই মতো কাজ হচ্ছে কি না সেই মতো রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে। কাজেই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে নিতে হচ্ছে বন দপ্তরকে।

