অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: বাঘের গর্জন শোনার অপেক্ষায় দিন গুনছে বক্সা (Buxa)। জঙ্গলে রাজার আগমন বলে কথা, আয়োজন রাজকীয় না হলে কি হয়! তাই এই মুহূর্তে বক্সার বাঘবনে যেন উৎসবের মেজাজ। চারদিকে সাজোসাজো রব। পরিকাঠামো উন্নয়নে বন দপ্তরের ব্যস্ততা তুঙ্গে। চলছে শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি। সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বাঘের নিরাপত্তা।
বক্সা টাইগার রিজার্ভের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, বাঘের নিরাপত্তার জন্য জঙ্গলে রেডিও টাওয়ার বসানো হচ্ছে। জঙ্গলের ব্ল্যাক স্পট, অর্থাৎ যেখানে ওয়াকিটকি দিয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না, সেখানে ওই টাওয়ারগুলো বসানোর কাজ চলছে। এছাড়া উন্নতমানের যন্ত্রাংশ কেনা হচ্ছে রেডিও মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য। কেনা হবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াকিটকি। জঙ্গলে যে বনকর্মীরা পাহারা দেবেন তাঁদের সেগুলো দেওয়া হবে।
এছাড়া জঙ্গলে নজরদারির জন্য বক্সায় পাঁচটি কুনকি হাতি আনা হয়েছে। তেমনই ভাড়া নেওয়া হয়েছে সাতটি গাড়ি। প্রয়োজনে আরও গাড়ি ভাড়া নেওয়া হবে। যে রাস্তা দিয়ে ওই গাড়িগুলো যাতায়াত করবে, সেগুলো সংস্কার করা হবে। আগামী এক সপ্তাহ পর থেকে রাস্তা সংস্কার শুরু হবে। টহল দেওয়ার সময় রাস্তার জন্য যেন বাঘের ওপর নজরদারিতে সমস্যা না হয়, সেজন্য এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, জঙ্গলে বন দপ্তরের যে অ্যান্টি পোচিং ওয়াচটাওয়ার রয়েছে, সেগুলো সংস্কার করা হবে। কোন জায়গায় কী প্রয়োজন, তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে এবার কাজ হবে। পাশাপাশি বনকর্মীদের বিভিন্ন কোয়ার্টার সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজাভাতখাওয়ায় বন দপ্তরের প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্রটিও যথেষ্ট গুরুত্ব পেতে চলেছে। বাঘ এলে সেখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে এবং বন দপ্তর বিভিন্ন কাজে সেটিকে ব্যবহার করবে বলে ওই ভবন সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বেশিরভাগ কাজ শেষ করা হবে।
বক্সা টাইগার রিজার্ভের এক শীর্ষ কর্তার কথা, ‘বক্সায় আবার বাঘের গর্জন শোনা যাবে। এটা কোনও মামুলি বিষয় নয়। তাই বিভিন্ন প্রস্তুতি করতেই হচ্ছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। টেন্ডার করেই সব কাজ করা হচ্ছে।’
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে, আগামী ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র-প্রকল্প থেকে একটি বাঘিনীকে আনা হবে বক্সায়। বাঘিনীকে নিয়ে আসার জন্য বনকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রথমেই বাঘিনীকে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাকে এক হেক্টরের একটি বিশেষ জায়গায় রাখা হবে, যাকে বলে ‘সফট-রিলিজ এনক্লোজার’। সেখানে কিছুদিন থেকে বক্সার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেবে বাঘিনীটি। এরপর তাকে মুক্ত অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বন দপ্তরের কাছে বাঘিনীর নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য পাচ্ছে। সুরক্ষা বজায় রাখতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। বাঘিনীর শরীরে পরানো থাকবে স্যাটেলাইট কলার। জঙ্গলের আনাচকানাচে বসানো হয়েছে উন্নতমানের ট্র্যাপ ক্যামেরা। সব মিলিয়ে বাঘ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে বক্সায়।

