Burdwan | শিক্ষককে দাঁড় করিয়ে চেয়ারে বিজেপি নেতা! ক্লাসরুমে রাজনৈতিক কর্মসূচির ছবি ভাইরাল হতেই শোরগোল ভাতারে  

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: স্কুলের ক্লাসরুমে পঠনপাঠন চলাকালীন শিক্ষকের চেয়ারে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখার অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে (BJP Chief Sits On Instructor Chair)। আর ক্লাসরুমের মধ্যেই ওই নেতার পাশে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এই ঘটনার একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই পূর্ব বর্ধমানের (Burdwan) ভাতারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ব্লকের বলগোনা বাজারের শুশুনদিঘি এইচপি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত ভিশন ২০৪৭’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে স্কুলের ক্লাসরুমে গিয়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বিজেপির ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের কনভেনর সুব্রত গোস্বামী।

ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শ্রেণিকক্ষের একটি চেয়ারে বসে বিকশিত ভারত কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য রাখছেন ওই বিজেপি নেতা। আর তাঁর ঠিক পাশেই ডান দিকে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্কুলের এক শিক্ষক। এমনকি খানিকটা দূরে একই রকমভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও। অভিযোগ, ক্লাসরুমে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাঁড় করিয়ে রেখে ওই নেতা নিজে শিক্ষকের চেয়ার দখল করেন এবং পড়ুয়াদের সামনে রাজনৈতিক ও সরকারি নীতির রূপরেখা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য রাখেন।

একটি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে এভাবে রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য রাখা এবং শিক্ষকদের দাঁড় করিয়ে রেখে শিক্ষকের চেয়ারে বসার ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র নিন্দা। এই বিষয়ে বিরোধীরা তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। সিপিএম নেতা দীপঙ্কর দে বলেন, “ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন ক্ষতিগ্রস্ত হলো, তার দায় নেবে কে? শিক্ষার জগতে দখলদারি শুরু হয়ে গিয়েছে।” অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু কটাক্ষ করে বলেন, “রাজনৈতিক দলের একজন কর্মী কি কোনো স্কুলের ক্লাসরুমে গিয়ে এই ভাবে বক্তব্য রাখতে পারে? এমন ঘটনার কথা জেনে বাংলার মানুষ হিসেবে আমারও লজ্জা লাগছে।”

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের কনভেনর সুব্রত গোস্বামীর দাবি, তিনি নিজে থেকে মাস্টারমশাইয়ের চেয়ারে বসতে চাননি। ওই স্কুলের শিক্ষকরাই তাঁকে জোর করে ওই চেয়ারে বসিয়েছেন এবং গোটা বিষয়টির ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির জেলা মুখপাত্র ড. শান্তরূপ দে দাবি করেছেন, যেভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করা হচ্ছে তা সঠিক নয়, কারণ ‘বিকশিত ভারত’ একটি জনমুখী কর্মসূচি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *