Uploaded By: Sushmita Ghosh
অনুপ মণ্ডল, বুনিয়াদপুর: মঙ্গলচণ্ডীগান, মুখানাচ, ঢাকের বাদ্যি এবং শতাধিক মানতের ভোগের ডালায় মুখর হয়ে উঠল বুনিয়াদপুর (Buniadpur) পুর এলাকার বড়াইলের শতাব্দীপ্রাচীন বুড়ি মায়ের পুজো। সোমবার সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় ভক্তদের ঢল নামে। ধর্মীয় আবহ, লোকসংস্কৃতি ও মেলাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় কার্যত উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বড়াইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে বুড়ি মায়ের মন্দির (Buri Maa Temple)। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক পুরুষ ধরে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ এই পুজো করে আসছেন। এখানে চণ্ডীরূপে চারহাতে বুড়ি মা সিংহাসনে আসীন অবস্থায় দুই পাশে লক্ষ্মী এবং সরস্বতীকে নিয়ে পূজিত হন। একসময় দেড় বিঘা জমির ওপর মাটির ঘরে এই পুজো অনুষ্ঠিত হলেও ২০০৩ সাল থেকে পাকা মন্দিরে বৈশাখ মাসের এই দিনে জাঁকজমক সহকারে পুজো হয়ে আসছে।
সোমবার সকাল থেকেই শেরপুর, খুশিপুর, সরাই, মালাম, নলপুকুর, বুনিয়াদপুর, বড়াইল এবং বংশীহারী সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক পুরুষ ও মহিলা মানতের ভোগ, ডালা ও নানা উপঢৌকন নিয়ে মন্দিরে হাজির হন। ভক্তদের ভিড়ে মন্দির চত্বর কার্যত উপচে পড়ে। সকাল থেকে মন্দিরের নীচে অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলচণ্ডীগান, লক্ষ্মীগান ও মুখানাচ। তিন-চারটি ঢাকের তালে তালে মন্দির প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। তরুণদের ‘হরি বোল্লা’ ধ্বনিতে উৎসবের আবহ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ভিড় সামলাতে ও মানতের সামগ্রী গ্রহণ করতে এদিন প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছিল। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে মাইকযোগে অফিসঘর থেকে সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হয়। পুজো ও মেলাকে ঘিরে বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে অস্থায়ী দোকান। ভোগ, মিষ্টি, স্টেশনারি, ঠান্ডা পানীয়, ফাস্ট ফুড থেকে গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকানে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। রাতভর পুজোমণ্ডপের পাশে যাত্রাগানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
মন্দিরের সেবাইত গান্ধি সরকার জানান, বহু বছর ধরে তিনি এখানে সেবার দায়িত্বে রয়েছেন। এই দিনে দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত পুজো দিতে আসেন। অপর সেবাইত গোমেন সরকার বলেন, ‘কবে থেকে এই পুজো শুরু হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানা না গেলেও কয়েক পুরুষ ধরে এই পুজো ও মেলা চলে আসছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ বুড়ি মায়ের দর্শনে আসেন।’
