Spain vs Argentina | মুখোমুখি দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি, ইয়ামালের হুংকারের মাঝেই স্প্যানিশ দর্শন নিয়ে সতর্ক মেসি

Spain vs Argentina | মুখোমুখি দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি, ইয়ামালের হুংকারের মাঝেই স্প্যানিশ দর্শন নিয়ে সতর্ক মেসি

ব্লগ/BLOG
Spread the love


জয় মণ্ডল, নিউ ইয়র্ক: ‘নিউ ইয়র্ক, আমরা আসছি।’ পুয়ের্তো রিকান গায়ক ব্যাড বানির বিখ্যাত গানের কলি ধার করে লামিনে ইয়ামালের এই ইনস্টাগ্রাম পোস্টই বুঝিয়ে দিচ্ছে, রোববারের ফাইনাল নিয়ে স্প্যানিশ শিবির কতটা মরিয়া (Spain vs Argentina)। ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্পেনের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর ড্রেসিংরুমের উচ্ছ্বাসটা ছিল দেখার মতো। সতীর্থ পেড্রো পোরোকে দিয়ে দ্বিতীয় গোল করানো ড্যানি ওলমো তো বলেই দিলেন, ‘সবটাই যেন আগে থেকে লেখা ছিল। আটলান্টায় শুরু করে আমরা নিউ ইয়র্কে এসে পৌঁছালাম। এখন লক্ষ্য থেকে সামান্য দূরে।’

স্প্যানিশ ফুটবলের এই নতুন প্রজন্মের মশাল এখন ইয়ামালের হাতে। সদ্য ১৯-এ পা দেওয়া এই উইঙ্গার ফাইনালে মাঠে নামলেই গড়বেন এক অনন্য কীর্তি। পেলের (১৭ বছর ২৪৯ দিন) এবং ইতালির জিউসেপ্পে বার্গোমির (১৮ বছর ১৭৪ দিন) পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় কনিষ্ঠতম ফাইনালিস্ট হতে চলেছেন তিনি, ছাপিয়ে যাবেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপেকেও। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হয়তো তাঁর নামের পাশে গোল নেই, কিন্তু তাঁর আদায় করা পেনাল্টি থেকেই প্রথম গোলটি করেছিল স্পেন।

তবে প্রতিপক্ষ যখন লিওনেল মেসি, তখন হিসাবনিকাশ একটু অন্যভাবে করতে হয়। আটলান্টায় বুধবার রাতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও এনজো ফার্নান্ডেজ এবং লওটারো মার্টিনেজকে দিয়ে গোল করিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়েছেন মেসি। আর তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার পর তিনি স্প্যানিশদের নিয়ে রীতিমতো হোমওয়ার্ক শুরু করে দিয়েছেন।

স্পেনের ফুটবল দর্শন তাঁর চেয়ে ভালো আর কে-ই বা বোঝে! নিজের ক্লাব কেরিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর সময়টা তো ওই দেশটিতেই কাটিয়েছেন। মেসি পরিষ্কার বলেছেন, ‘স্পেন দুর্দান্ত একটা দল। ওদের নিজস্ব একটা খেলার ধরন আছে, যা আমি খুব ভালো করেই চিনি। দলের অনেকেই বার্সেলোনায় খেলে, যে ক্লাবটাকে আমি আজও ভালোবাসি। তাই এই ম্যাচটা আমার কাছে ভীষণ স্পেশাল। আশা করছি একটা সমানে-সমানে লড়াই হবে।’

৩৯ বছরের মেসি এই টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই আটটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বলের দৌড়ে সবার আগে। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর হাড়ভাঙা পরিশ্রম। গত ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনায় সকাল-বিকেল টানা অনুশীলন করেছেন শুধু এই বিশ্বকাপটার জন্যই। টানা পাঁচটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার তৃপ্তি নিয়ে তাঁর সংযোজন, ‘এই দলটা যা করছে, তা সত্যিই অভাবনীয়। কেউ আমাদের হাতে কিছু তুলে দেয়নি, সবটাই মাঠে আদায় করে নিতে হয়েছে।’

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রবিবার তাই শুধু একটা ম্যাচ নয়। একদিকে অপ্রতিরোধ্য তারুণ্যের স্পর্ধা নিয়ে দাঁড়িয়ে ইয়ামাল, অন্যদিকে নিখুঁত অভিজ্ঞতার শান্ত সমাহিত রূপ নিয়ে মেসি। নিউ ইয়র্কের প্রহর গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে, আর সেইসঙ্গে তৈরি হচ্ছে ফুটবলের এক নিখাদ লড়াইয়ের রণাঙ্গন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *