Uploaded By: Sushmita Ghosh
কল্লোল মজুমদার, মালদা: গত দু’দিন ধরে আকাশ বেশ মেঘলা, সেইসঙ্গে থেকে থেকে সামান্য বৃষ্টিও হচ্ছে। সঙ্গে বেশ হাওয়া চলছে। এমন পরিস্থিতিতে মালদার (Malda) লিচুচাষিদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। চাষিরা জানান, এবছর লিচু (Litchi Disaster) চাষের অফ ইয়ার। তাঁদের আশঙ্কা, এরকম আবহাওয়া চলতে থাকলে লিচুতে ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। তাই এবার জেলায় অন্যবারের তুলনায় লিচুর ফলন অর্ধেকেরও কম হতে পারে। মেঘলা আকাশের কারণে লিচু পাকতে দেরি হবে, সেক্ষেত্রে বাজারে লিচুর দেখা মিলতেও বেশ কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মালদা জেলায় বোম্বে প্রজাতির লিচু চাষ হয়, যা সারাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। জেলার কালিয়াচক (Kaliachak)-১, কালিয়াচক-২ ও কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লক ছাড়াও রতুয়া-১ ও ২ নম্বর ব্লকের প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু উৎপন্ন হয়। ইংরেজবাজার, পুরাতন মালদার কিছু এলাকাতেও লিচু চাষ হয়। জেলায় গড় লিচু উৎপাদনের পরিমাণ ১৫ হাজার মেট্রিক টন। জেলার প্রায় ৫ হাজার মানুষ এই লিচু চাষের সঙ্গে যুক্ত।
আবহাওয়ার জন্য চাষে প্রভাব পড়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মালদা জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর সামন্ত লায়েক। তাঁর কথায়, ‘শুধু এই সময় নয়, গতবছর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে যে বৃষ্টি হয়েছিল তাতেও লিচু চাষের ক্ষতি হয়েছে। সেই সময় গাছে মুকুল আসার জায়গায় নতুন করে পাতা গজাতে শুরু করেছিল। ফলে লিচু উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করছি আমরা।’
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জেলা সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানান, রোদ না উঠলে লিচু চাষের ক্ষেত্রে ছত্রাক আক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যাবে। এই ছত্রাকের থেকে লিচু বাঁচাতে হলে চাষিদের রাসায়নিক স্প্রে করতে হবে। এই স্প্রে করা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে চলতি মরশুমে বাজারে লিচুর দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মালদা জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮.২ মিলিমিটার। তবে জেলার বরিন্দ এলাকায় এই বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটা বেশি। সেইসঙ্গে মেঘলা আবহাওয়ার জন্য সমস্যা দেখা দিয়েছে।
পুরাতন মালদার বাসিন্দা একরাম হোসেন লিচু চাষ করেন। তাঁর আশঙ্কা, ‘আজকালের মধ্যে কড়া রোদ না উঠলে ছত্রাকের আক্রমণ হবে। সেই ছত্রাকের আক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে ফের রাসায়নিক স্প্রে করতে হবে। এতে ফল পেতে যেমন দেরি হবে, তেমনি চাষের খরচও বেড়ে যাবে।’
আরেক চাষি অতুল মণ্ডলের মতে, ‘আবহাওয়া এরকম চলতে থাকলে চাষের ক্ষেত্রে খরচ যেমন বাড়বে, তেমনি বাজারে লিচু অনেক বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।’
