উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : ভারতে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসার নাম সম্ভবত ‘ধর্ম’। জিএসটি নেই, মন্দা নেই, আছে শুধুই অন্ধ ভক্তি আর সেই ভক্তিকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকার রমরমা বাণিজ্য। মানুষ যেখানে দু’মুঠো ভাতের জন্য লড়াই করছে, সেখানে ধর্মের ঠিকাদাররা দেবতার দোহাই দিয়ে ভক্তের পকেট কাটতে ব্যস্ত। বিশ্বাস আর ব্যবসার এই নগ্ন মেলবন্ধন আবারও সামনে এল অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি মন্দিরের সাম্প্রতিক ঘটনায়।
খবরটা চমকে দেওয়ার মতো। তিরুপতি বালাজি মন্দিরে ভক্তরা দেবতার উদ্দেশ্যে যে ‘সিল্ক’ বা রেশমের দুপাট্টা বা উত্তরীয় চড়ান, তা আসলে সিল্কই নয়! পরম ভক্তিতে কেনা সেই দামী রেশমবস্ত্রের নামে বছরের পর বছর ধরে বিক্রি করা হয়েছে সস্তা পলিয়েস্টার। আর এই ‘রেশমি’ জালিয়াতির অঙ্কটা নেহাত কম নয়—৫৪ কোটি টাকা! ভাবা যায়? যে মন্দিরে মানুষ মানসিক শান্তি খুঁজতে যান, পাপ মোচন করতে যান, সেখানেই খোদ দেবতার চোখের সামনে চলছে ভক্তকে ঠকানোর এই মহোৎসব।
প্রশ্নটা শুধু ৫৪ কোটি টাকার নয়, প্রশ্নটা বিশ্বাসের। লাড্ডুতে পশুর চর্বি মেশানোর অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কাপড়ে কারচুপি। ধর্মস্থানগুলো আজ আর কেবল প্রার্থনার জায়গা নেই, হয়ে উঠেছে কর্পোরেট কায়দায় চলা এক-একটি ‘প্রফিট মেকিং মেশিন’। সেখানে ঈশ্বর গৌণ, ব্যবসাই মুখ্য। ভক্তের সরল বিশ্বাসকে ক্যাশ করে কীভাবে ব্যালেন্স শিট ভারী করা যায়, সেটাই যেন একমাত্র লক্ষ্য।
সাধারণ মানুষ কবে বুঝবে যে, ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্য দামী রেশমের প্রয়োজন হয় না? নাকি ধর্মের আফিমে বুঁদ হয়ে এভাবেই তারা বারবার প্রতারিত হতে থাকবে? ৫৪ কোটির এই কেলেঙ্কারি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—ভক্তি যেখানে অন্ধ, ব্যবসা সেখানে রাজত্ব করে।
