BRICS Summit | মতপার্থক্য ভুলে দিল্লি ঘোষণাপত্রে ঐকমত্য পোষণ ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলির! বড় কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে (BRICS Summit) দীর্ঘ আলোচনার পর দিল্লি ঘোষণাপত্রে (New Delhi Declaration) ঐকমত্য পোষণ করল সদস্যভুক্ত দেশগুলি। শনিবার ভোর চারটা পর্যন্ত ম্যারাথন বৈঠকের পর এই কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করে ভারত। ভূরাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মতো জটিল পরিস্থিতিতে সমস্ত সদস্য দেশকে এক টেবিলে এনে এই যৌথ ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করার মাধ্যমে ভারতের কূটনৈতিক দক্ষতা আবারও প্রমাণিত হল (India diplomacy)।

এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলি অংশ নিয়েছে, যারা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। তা সত্ত্বেও ভারতের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনা সফল হয়। একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই যৌথ ঘোষণাপত্রে নির্দিষ্ট কোনও দেশকে আক্রমণ না করে সামগ্রিকভাবে যে কোনও দেশের যুদ্ধের একতরফা পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়েছে। ঠিক যেমনটা ২০২৩ সালে জি-২০ (G20) সম্মেলনের সময় ভারত করেছিল, ঠিক একই দক্ষতার পুনরাবৃত্তি ঘটল ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এই ব্রিকস সম্মেলনেও। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসবাদ নিয়েও একই অবস্থান নিয়েছে ব্রিকসের সদস্যভুক্ত দেশগুলি। শনিবার বিকেল ৪টায় দিল্লি ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করা হতে পারে।

চলতি সম্মেলনে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়াও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য সুরক্ষা, প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সদস্য দেশগুলির নিজেদের মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পশ্চিমা আধিপত্যযুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প গড়ে তোলাও এই জোটের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা।

সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে ব্যস্ত বিশ্বনেতারা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া গত সাত বছরে এই প্রথম ভারত সফরে এসে শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালের সীমান্ত উত্তেজনার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্রিকস বিরোধী হুমকি এবং বিভিন্ন দেশের ওপর মার্কিন শুল্ক নীতির আবহে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের পরিপন্থী এই ধরনের একতরফা শুল্ক নীতিরও কড়া বিরোধিতা করেছেন ব্রিকস জোটের অর্থমন্ত্রীরা। প্রতিষ্ঠার কুড়ি বছর পর, গ্লোবাল সাউথের (International South) কণ্ঠস্বর জোরালো করতে এবং বহুমুখী কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতের এই সাফল্য আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *