উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির অধিকার এবং প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে ব্রিকসের মঞ্চে বড়সড়ো সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের (BRICS Summit) উদ্বোধনী ভাষণে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, গ্লোবাল সাউথ (International South) বা দক্ষিণের দেশগুলিকে কেবল ‘নিয়ম মেনে চলা পক্ষ’ বা ‘রুল টেকার’ হয়ে থাকলে চলবে না, বরং তাদের ‘নিয়ম নির্ধারণকারী’ বা ‘রুল শেপার’ হয়ে উঠতে হবে।
চিন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে গ্লোবাল সাউথের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিচালনার কাঠামোটি একটি পিরামিডের মতো। যেখানে ক্ষমতার চাবিকাঠি শীর্ষস্থানে থাকা হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কুক্ষিগত, অথচ নীতিগুলির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি সহ্য করতে হয় নীচের সারির উন্নয়নশীল দেশগুলোকে। তবে ব্রিকস কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলার মন্ত্রেই বিশ্বাসী বলে স্পষ্ট করে দেন তিনি।
আগামী দুই দশকের জন্য একটি দূরদর্শী ১০ দফা রোডম্যাপও এদিন পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যেখানে প্রতিনিধিত্ব, সংবেদনশীলতা এবং নিয়ম তৈরি— এই তিনটি স্তম্ভের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) সংস্কারের বিষয়টি যে আর কোনওভাবেই দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়, সেকথা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির ভোটাধিকার এবং নীতি নির্ধারণে তাদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনুযায়ী যথাযথ ভূমিকা দেওয়ার দাবি জানান মোদি।
ব্রিকসের প্রাতিষ্ঠানিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নেতৃত্বের পরিবর্তনে যাতে কাজের ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য ‘ট্রয়োকা’ (পূর্ববর্তী, বর্তমান এবং আগত চেয়ার দেশ) ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এছাড়া সিদ্ধান্তগুলি ট্র্যাক করতে একটি ডিজিটাল সংগ্রহশালা গড়ার পক্ষেও সওয়াল করেন। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের আবহে সমুদ্রপথে নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে একটি ‘সিফেয়ারার্স ইমার্জেন্সি সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’ তৈরির প্রস্তাব দেন মোদি।
তবে এবারের ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সভাপতিত্বে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম না করে সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সর্বসম্মত ঐকমত্যে পৌঁছেছে সদস্য দেশগুলি।

