BRICS summit | ব্রিকস মঞ্চে ভারত-চিন-রাশিয়ার সমন্বয়, আশায় ভারতের হবু ডাক্তাররা

শিক্ষা
Spread the love


শুভদীপ ব্যানার্জি, নয়াদিল্লি:‌ ব্রিকসের মঞ্চে (BRICS summit) ভারত-‌চিন-‌রাশিয়ার সমন্বয়ের ছবিতে সুখবরের অপেক্ষায় ডাক্তার হতে চাওয়া এদেশের পড়ুয়ারা। বেশ কয়েক বছর আগে পড়ুয়া বিনিময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাশিয়ার সরকার। যদিও লাল ফিতের ফাঁসে জড়িয়ে পড়ে সেই উদ্যোগ। তবে এবার ব্রিকস সম্মেলনে রুশ প্রতিনিধিদল বার্তা দিয়ে গিয়েছে, ভারতীয় ডাক্তারি পড়ুয়াদের স্বাগত জানাতে তৈরি হচ্ছে ফার্স্ট মস্কো স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, কাজান ফেডেরাল ইউনিভার্সিটি, ভলগোগ্রাদ স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মতো সরকারি চিকিৎসা শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলি।

ফলে ভারতীয় পড়ুয়াদের অনেকেই সুযোগ পাবেন এইসব ভরতুকিপ্রাপ্ত রুশ মেডিকেল কলেজে। ভারত সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে রাশিয়ায় প্রায় ২৩ হাজার এদেশের ডাক্তারি পড়ুয়া রয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যা আছে উত্তরবঙ্গের। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের আগে এদেশ থেকে প্রচুর পড়ুয়া পাড়ি দিতেন কিভে। যুদ্ধ শুরুর পরে ডাক্তারি পড়তে আগ্রহী ভারতীয় পড়ুয়ারা ছুটেছেন জর্জিয়া, এমনকি লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়ার মতো পূর্ব ইউরোপের দেশে।

এখন নতুন করে এগোতে চাইছে পুতিন সরকারের শিক্ষামন্ত্রক। ব্রিকসে যোগ দিতে রাশিয়ার সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এসেছিলেন ‘থিংক ব্রিকস’ নামে এক সংস্থার শীর্ষকর্তা আনাস্তাশিয়া গালিয়াকোভা। তাঁর কথায়, ‘‌বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে মস্কো। আমরা চাই, আরও বেশি ভারতীয় ডাক্তারি পড়ুয়া আসুন রাশিয়ায়। কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতা আছে। কিছু আসন সংরক্ষিত থাকে। সেই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে বার্তা দিয়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট পুতিন। আশা করি, এবার কাজ হবে।’‌

নয়ডার এক পরামর্শদাতা সংস্থা ‘‌রাস এডুকেশন’‌-‌এর এক কর্তা অবশ্য মনে করেন, শুধু মস্কো চাইলেই হবে না। এগিয়ে আসতে হবে ভারতকেও। অনেক সময় বিদেশের ডাক্তারি ডিগ্রি এদেশের সব প্রতিষ্ঠানে সমান স্বীকৃতি পায় না। তখন আলাদা করে পরীক্ষায় বসে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। সেদিকে দেখুক মোদি সরকার।

একজন ডাক্তারি পড়ুয়ার রাশিয়ায় পড়াশোনা শেষ করতে বছরে তিন থেকে সাত হাজার ডলার খরচ হয়। দ্বাদশে ৫০ শতাংশ নম্বর পেলেই রাশিয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার সুযোগ মেলে। তাই ভারতের মেডিকেল কলেজে সুযোগ না পেলে অনেকের প্রথম পছন্দ হয় রাশিয়ার মেডিকেল কলেজ। বালুরঘাটের স্নেহা বিশ্বাস রাশিয়ার কাজান থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসে এখন নয়ডার এক বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। তিনি বললেন, ‘ভাষাটা তেমন বড় সমস্যা হয় না। তবে, দু’‌দেশের স্বাস্থ্যশিক্ষার পাঠক্রমে কিছু পার্থক্য আছে। যাঁরা যান, তাঁরা সব জেনেই ভর্তি হন।’‌

চিনেও যান অনেক ডাক্তারি পড়ুয়া। বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন অন্তত ২০ হাজার ভারতীয় ছাত্রছাত্রী চিনের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়ছেন। করোনার আগে সংখ্যাটা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছিল। যদিও রাশিয়ার তুলনায় চিনে ডাক্তারি পড়ার খরচ বেশি। ভারতীয় মুদ্রায় ৩৫ লাখের বেশি খরচ হতে পারে। এর মধ্যে ৫ বছরের ডিগ্রি এবং এক বছরের ইন্টার্নশিপ থাকে।

চিনের সাদার্ন মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে দেশে ফিরে এখন এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্য চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‌পড়াশোনার মানে আকাশপাতাল ফারাক না থাকলেও বিদেশি ডিগ্রির জন্য অনেকে রাশিয়া ও চিনে যাচ্ছেন। ব্রিকসের মঞ্চে তিন দেশের মধ্যে তালমিল বাড়লে লাভবান হবেন এদেশের পড়ুয়ারা।’‌



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *