বক্সিরহাট: রুট রয়েছে, কিন্তু বাস নেই। এই সুযোগে টোটো ও অটোর দৌরাত্ম্য দিন-দিন বাড়ছে। আর তাতেই নিত্যযাত্রী ও কলেজ পড়ুয়াদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। কোচবিহার থেকে তুফানগঞ্জ হয়ে বক্সিরহাট-শালডাঙ্গা রুটে সরকারি ও বেসরকারি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের এখন নির্ভর করতে হচ্ছে টোটো ও অটোর ওপর। এর ফলে যাতায়াতে ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। পাঁচ-ছয় বছর ধরে চলছে এই দুর্ভোগ বলে অভিযোগ তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের ভানুকুমারী-১ ও মহিষকুচি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের।
কলেজ পড়ুয়া মৌমিতা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ‘কোচবিহার বা তুফানগঞ্জের বাস ধরতে হলে ছয় কিলোমিটার দূরে বক্সিরহাট সূর্য সংঘ মোড়ে যেতে হয়। টোটোয় যেতে মাথাপিছু ২০ টাকা লাগে। আবার কলেজ বা বিডিও অফিসে যেতে হলে দিতে হয় ৩০ টাকা ভাড়া। পড়ুয়াদের কোনও ছাড় নেই, অথচ অন্য রুটে পড়ুয়ারা সেই সুবিধা পাচ্ছেন।’
এনিয়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এনবিএসটিসি) চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়ের বক্তব্য, ‘বক্সিরহাট সহ ওই এলাকায় বেশকিছু রুটে নতুন করে বাস পরিষেবা চালুর বিষয়ে সমীক্ষা করা হবে। রুটটি লাভজনক হলে বাস ফের চালু করা হবে।’ তবে কেন বন্ধ হয়েছিল এই রুটে সরকারি বাস পরিষেবা, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি নিগমের চেয়ারম্যান।
বাম আমলে তুফানগঞ্জ-বক্সিরহাট হয়ে শালডাঙ্গা রুটে বেশ কয়েকটি সরকারি বাস চলাচল করত। তার মধ্যে জনপ্রিয় ছিল কোচবিহার-শালডাঙ্গা নাইট হল্ট বাস। রাত আটটায় কোচবিহার থেকে ছাড়ত, তুফানগঞ্জ হয়ে রাত দশটার মধ্যে পৌঁছাত শালডাঙ্গায়। চিলাখানা বা মারুগঞ্জে কাজ সেরে রাতে নিশ্চিন্তে সেই বাসে বাড়ি ফিরতেন শ্রমিকরা। আবার সকালে ফেরার বাসে ছাত্রছাত্রীরা টিউশনে যেতে পারত। কিন্তু কয়েক বছর আগে ধীরে ধীরে সরকারি বাস তুলে নেওয়া হয় ওই রুট থেকে। এরপর শুরু হয় টোটো ও অটোর দাপট।
আগে শালডাঙ্গা থেকে বক্সিরহাট পর্যন্ত বাসভাড়া ছিল মাত্র ৫ টাকা। এখন টোটো বা অটোয় মাথাপিছু দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। আবার প্রয়োজনীয় কাজে বিডিও অফিস, থানায় যেতে হলে ভাড়া গুনতে হয় মাথাপিছু ৩০ টাকা। ফলে মানুষের উপর পড়েছে বাড়তি আর্থিক চাপ। ভানুকুমারীর বাসিন্দা দেবাশিস মোদক বলছেন, ‘টোটোগুলো শালডাঙ্গা থেকে যাত্রীবোঝাই করে আনে। মাঝপথ থেকে বক্সিরহাটে উঠতে গেলে জায়গা পাওয়া যায় না। অনেক সময় ঝুলে যেতে হয়।’
তুফানগঞ্জ মহকুমা বেসরকারি বাস মালিক সমিতির সম্পাদক সন্তোষ সাহা জানালেন, আগে এই রুটে বাস চালিয়েছেন। কিন্তু নিয়ম ভেঙে টোটো ও অটো চলাচল করায় যাত্রী হারিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও সমাধান না হওয়ায় বাস তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রশাসন সহযোগিতা করলে নতুন করে বাস চালু করতে প্রস্তুত
