বর্ধমান: চার বছর ধরে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে সিবিআই-এর জালে ধরা পড়ল বীরভূমের কুখ্যাত বগটুই গণহত্যা মামলার (Bogtui Homicide Case) অন্যতম অভিযুক্ত রোহন শেখ ওরফে কিসমত শেখ। মঙ্গলবার কলকাতার মির্জা গালিব রোড এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা তাকে গ্রেপ্তার করেন। বুধবার ধৃতকে বর্ধমানের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ৩০ জুন তাকে ফের আদালতে তোলা হবে।
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বগটুই কাণ্ডের শুরু থেকেই রোহন শেখের নাম উঠে আসে। এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই সে গা ঢাকা দেয়। তদন্ত শেষে সিবিআই যে চার্জশিট পেশ করে, তাতে রোহন সহ ২৭ জনের নাম ছিল। তাকে পলাতক দেখিয়েই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি রামপুরহাট আদালত তাকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ বলেও ঘোষণা করেছিল। ধৃত রোহন শেখ বগটুই কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের ছেলে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২১ মার্চ সন্ধ্যায় বগটুই মোড়ে তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুন হন। এরপরই বগটুই গ্রামে একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে শিশু ও মহিলা সহ ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার নেয় সিবিআই। পরে মামলাটি বীরভূম থেকে সরিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
ধৃতের আইনজীবী অমিত লাহা আদালতে জানান, এই মামলায় মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল সিবিআই। এর মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২২ জন আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিল। রোহন শেখ ধরা পড়ায় এখন মাত্র দু’জন পলাতক রইল। দীর্ঘ চার বছর পর রোহনের গ্রেপ্তারিতে মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

