উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ পাসপোর্ট কি তবে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়? গত ২৪ জুন চোদ্দতম পাসপোর্ট দিবস উপলক্ষ্যে বিদেশমন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের মন্তব্যে এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক দানা বেঁধেছে (Passport Citizenship)।
বুধবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করা হয়, “পাসপোর্ট মূলত আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য একটি জরুরি নথি। শুধুমাত্র পাসপোর্ট থাকলেই তা নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে না।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এক্স (সাবেক টুইটার)-সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, যদি পাসপোর্ট, আধার বা ভোটার কার্ড—কোনোটিই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ না হয়, তবে সেই নথি আসলে কী?
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছিল যে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, এটি কেবলমাত্র একটি পরিচয়পত্র। একই কথা প্রযোজ্য ভোটার আইডি কার্ডের ক্ষেত্রেও, যা মূলত পরিচয় ও বাসস্থানের নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেয়।
বিদেশমন্ত্রকের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে যে, পাসপোর্ট প্রকৃতপক্ষে ভারত সরকারের সম্পত্তি। পাসপোর্টের পাতায় স্পষ্টভাবে লেখা থাকে যে, সরকার নির্দেশ দিলে তা ফেরত দিতে হবে। তাই এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির চেয়ে সরকারের দেওয়া একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা ভ্রমণের অনুমতিপত্র হিসেবেই বেশি পরিচিত।
ভারতের নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের মাপকাঠি জন্মসূত্রে নির্ধারণ করা হয়। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বা তার পরে এবং ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। এরপরের সময়সীমাগুলোতে বাবা-মায়ের নাগরিকত্বের ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়। তবে সরকারি আধিকারিকদের এই সব মন্তব্যের ফলে নাগরিকত্বের বৈধ প্রমাণপত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা এখনও কাটেনি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে চূড়ান্ত কোনো ব্যাখ্যা না মেলায় বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।

