উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ উৎসবের আবহ ও নিমন্ত্রণের আনন্দ নিমেষেই পরিণত হলো চরম বিষাদে। মাঝগঙ্গায় যাত্রী বোঝাই নৌকা ডুবে অন্তত ১১ জনের মর্মান্তিক সলিল সমাধি ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে সিংহভাগই নিষ্পাপ শিশু ও নাবালক। মঙ্গলবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বৈশালী জেলার রাঘোপুর দিয়ারা এলাকায়। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে একটি পারিবারিক নিমন্ত্রণ বাড়িতে যোগ দিতে ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী একটি ছোট নৌকায় চেপে গঙ্গাপার হচ্ছিলেন। কিন্তু রাঘোপুরের কাছে মাঝগঙ্গায় আচমকাই ভারসাম্য হারিয়ে প্রমত্তা গঙ্গার জলে তলিয়ে যায় নৌকাটি। অন্ধকার রাতের কারণে উপস্থিত যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল। নদীর অতল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলের ডুবুরিদের তল্লাশিতে নামানো হয়। উদ্ধারকাজে গতি আনতে স্থানীয় গ্রামবাসী ও মৎস্যজীবীরাও প্রশাসনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ইতিমধ্যেই জল থেকে কয়েকজনকে জীবন্ত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্যান্য যাত্রীদের সন্ধানে এখনও গঙ্গার বুকে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) তিনি নিহতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি লেখেন, “বৈশালীর রাঘোপুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিষ্পাপ শিশুদের প্রাণ হারানোর খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকার্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। ঈশ্বর প্রয়াত আত্মাদের শান্তি দিন।”
অন্যদিকে, রাঘোপুর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করে লেখেন, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও দলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উদ্ধারকাজ ও আহতদের চিকিৎসায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

