গুসকরা: ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে এক বধূর বাড়িতে গিয়ে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে এক প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক তথা বিএলও-কে (BLO Arrested Molestation) গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা শহরের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সেটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত জাকির হোসেন গুসকরা শহরের ইটাচাঁদা এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় একজন প্রাথমিক শিক্ষক ও ওই এলাকারই বুথ লেভেল অফিসার (BLO)। অভিযোগকারী বধূও গুসকরা শহরেরই বাসিন্দা। তাঁর স্বামী স্থানীয় এক সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীর কাছে কাজ করায় তিনি বেশিরভাগ সময় বাড়িতে একাই থাকেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় ভোটার কার্ডের ভুল সংশোধন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় মায়ের নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের কথা বলে জাকির হোসেন ওই বধূর বাড়িতে যান।
প্রাথমিকভাবে মৌখিক কিছু তথ্য জানার পর তিনি কিছু কাগজপত্র দেখতে চান। বধূটি বাড়ির উঠানে তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে ঘরের ভেতর কাগজপত্র আনতে গেলে, জাকির হোসেন চুপিসারে ঘরে ঢুকে তাঁকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ। কোনওকমে নিজেকে ছাড়িয়ে বাইরে এসে তিনি সম্ভ্রম বাঁচান। পরে তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরলে পুরো বিষয়টি জানান এবং স্বামী ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গুসকরা পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বধূর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযুক্ত বিএলও জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পর শুক্রবার ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী রবিবার ফের আদালতে পেশ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ধৃত শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

