উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর (SIR) ঘোষণা হতেই ‘অল আউট’ মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল। বিভিন্ন ইস্যুতে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। এরই মধ্যে পানিহাটির এক প্রৌঢ়ের আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। প্রদীপ কর নামে ওই প্রৌঢ়ের পরিবার ও পুলিশের দাবি, সুইসাইড নোটে ওই প্রৌঢ় লিখে গেছেন এনআরসির আতঙ্কেই তিনি সুইসাইড করেছেন। এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এককাঠি এগিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালই অমিত শা ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর কেন হবে না সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। এদিন পানিহাটিতে মৃতের বাড়িতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের গাছে বেঁধে রাখার নিদান দিয়েছেন। আগামীকাল এনিয়ে পানিহাটিতে তৃণমূলকে মিছিলও করার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
কিন্তু যেই ঘটনা নিয়ে রাজ্য তোলপাড় করার পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল, সেই প্রদীপ করের আত্মহত্যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। প্রদীপ করের পরিবারের কয়েকজনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতৃত্বের প্রশ্ন, প্রদীপ কর কি আদৌ লিখতে সক্ষম ছিলেন? প্রদীপের পরিবারের সদস্যরাই বলছে তিনি তৃতীয় শ্রেণি অবধি পড়েছেন। আবার দ্বিতীয়ত, তাঁর ডান হাতের চারটি আঙুল পুরো নেই। বাঁহাতে লিখতেন কিনা তাও জানা যায়নি। বুধবার বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ওই মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন। বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরন রায়ের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম ছিল প্রদীপ করের। এখানেই তাঁদের যুক্তি, কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাহলে দেশছাড়া হওয়ার ভয়ে কেন আত্মহত্যা করবেন প্রদীপ? বিজেপির দাবি, অন্য কোনওকারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন প্রৌঢ়। তার জেরেই চরম সিদ্ধান্ত। বিজেপির নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘তদন্ত হওয়া উচিত। সুইসাইড নোটটি কে লিখেছেন তা জানা প্রয়োজন।’
