উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিরোধীদের রাজনৈতিক কৌশলকে আর লঘু করে দেখতে নারাজ কেন্দ্রের শাসক দল। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বারবার তৈরি হওয়া নানা চাপের মুখে এবার দেশব্যাপী আক্রমণাত্মক প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্ম শিবির (BJP)। দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে পালিত হতে চলেছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ শীর্ষক এই কর্মসূচি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মত, নতুন সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin) দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হতে চলেছে সংগঠনের সবচেয়ে বড় ও নীতিনির্ধারক রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
এর আগে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়েছিল বিরোধী শিবির ও শাসক দল। বিশেষ করে নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা এবং পরবর্তীতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়েছিল কেন্দ্র। ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহল এবং জেনজি অংশকে সঙ্গে নিয়ে লাগাতার চাপ বাড়িয়ে চলেছে বিরোধীরা। আগামী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই ধরনের বিক্ষোভ ও অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গেরুয়া শিবির। সেই সম্ভাব্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতেই এই পালটা রণকৌশল নেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করতে সম্প্রতি সল্টলেকের রাজ্য দপ্তরে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের উপস্থিতিতে হওয়া ওই বৈঠকে দলের পদাধিকারীদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ঠিক হয়েছে, বিরোধীদের এই নৈরাজ্যের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে দেশের পাশাপাশি এ রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বড় মিছিলের আয়োজন করা হবে, যেখানে প্রতিটি মিছিলে অন্তত দশ হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বিধানসভা এলাকার দুইশো বিশিষ্ট মানুষের বাড়িতে ব্যক্তিগত স্তরে গিয়ে আলোচনা করবেন দলের নেতৃত্ব। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্রসমাজকে দলের কাছাকাছি টানতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিশেষ সেমিনারের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
২০২৭-এর শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট এবং উত্তরাখণ্ডের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগে বিরোধীদের সমস্ত আন্দোলন এবং প্রচারের ঝাঁজ প্রশমিত করাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। নতুন সভাপতির নেতৃত্বে দেশজুড়ে (India) পালিত এই বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি কতটা জনসমর্থন আদায় করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল।

