সিউড়ি: জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ফের সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ! বীরভূমের (Birbhum) সাঁইথিয়ার আমোদপুরে এক তৃণমূল নেতাকে কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত নেতার নাম তাহিরুল শেখ, যিনি সাঁইথিয়া ব্লকের ভ্রমরকোল অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি। রবিবার বেলার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে পাকড়াও করে আমোদপুর বাজারে ঘোরান এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের দিন ভ্রমরকোল অঞ্চলের ৬৮ নম্বর বুথে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক দেবাশিস ওঝার ছেলে, নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল সহ একাধিক বিজেপি নেতাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় নাম জড়ানোর পর পুলিশ তাহিরুল শেখকে গ্রেপ্তার করেছিল। মাস দুয়েক আগে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগ, জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকে তিনি এলাকায় ফের দাদাগিরি শুরু করেন এবং দলীয় কর্মীদের ও সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। রবিবার সকালে তাহিরুল আমোদপুর সংলগ্ন ঈশ্বরপুর গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সাধুর বাড়িতে যান। এই খবর চাউর হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ও ক্ষুব্ধ মানুষজন সেখানে চড়াও হন। এরপর তাঁকে ধরে কোমরে দড়ি পরিয়ে আমোদপুর বাজারে ঘোরানোর পর আমোদপুর ফাঁড়ির পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির ভ্রমরকোল মণ্ডল সভাপতি সুদীপ ঘোষ বলেন, “ভোটের দিন এই তাহিরুলের নেতৃত্বে আমাদের মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। জামিন পাওয়ার পর সে ফের আমাদের কর্মীদের হুমকি দিচ্ছিল। আজ এলাকাবাসী ও আমাদের কর্মীরা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।”
অন্যদিকে, এই ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে দাবি করে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইউনুস জানান, পুলিশকে ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগে তাদের নেতাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। যদিও বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “ওই তৃণমূল নেতা জনরোষের শিকার হয়েছেন। ভোটের দিন যেভাবে আমাদের নেতাদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিলেন, তাতে তাঁর আরও বড় শাস্তি হওয়া উচিত।” জনরোষের জেরে ঘটা এই নজিরবিহীন ঘটনায় বীরভূমের রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

